যেমন আগে নেমেছি, এখনো আবার নামব: জামায়াত আমির

সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জেছবি: জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজের ভিডিও থেকে

ফ্যাসিবাদ একজন থেকে আরেকজনে সংক্রমিত হয় উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সেই সংক্রমণ ইতিমধ্যে আমরা লক্ষ করছি। জনগণের রায়কে অবলীলায় অগ্রাহ্য, অপমান, অস্বীকার করার নামই হচ্ছে ফ্যাসিবাদের সূচনা। আমরা দেশে আর ফ্যাসিবাদ চাই না।’

আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। ঢাকা জেলা জামায়াত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ওনারা বলছেন, সংবিধানে গণভোট নাই। আমাদের প্রশ্ন, এই দলটির জন্ম যাঁর হাতে, তাঁর হাতেই প্রথম বাংলাদেশে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তখন কি সংবিধানে সেই গণভোটের প্রভিশন (বিধান) ছিল? তখন যদি এটা জায়েজ হয়ে থাকে, এখন নাজায়েজ হয় কীভাবে?’

জনগণ গণভোটে তাঁদের রায় দিলেও সরকার সেটি না মেনে এখন সংবিধান সংশোধন করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

সংবিধান সংশোধন ও সংস্কারের পার্থক্য তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘একটা হচ্ছে পুরোনো জামা ছিঁড়ে গেছে, ওইটাকে কেটে জোড়া দিয়ে পরানো। আরেকটা হচ্ছে গায়ের জামার তিনটা অংশ; ছেঁড়া অংশটা পুরো ফেলে দিয়ে সেখানে নতুন জামা পরানো। আমরা ওই কাটাছেঁড়া জামা আর জাতির গায়ে পরাতে চাই না। এই সংবিধান ১৭ বার, ১৬ বার সংশোধন হয়েছে। এত সংশোধনের পথে ফ্যাসিবাদ এল কীভাবে? সংবিধানের যে ধারাগুলোর কারণে ফ্যাসিবাদ জন্ম নেয়, আমরা ওই ধারাগুলোই সংবিধান থেকে নির্বাসনে পাঠিয়ে সংস্কার করতে চাই।’

সংকট সমাধানে এখনো সময় শেষ হয়ে যায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দল চেয়েছে সংসদে সমস্যার সমাধান হোক। তারা সেটি গ্রহণ করেনি। এর মাধ্যমে জনরায় বাস্তবায়নে তারা বিরোধী দলকে জনগণের কাছে যেতে বাধ্য করছে। যে জনগণ খালি হাতে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরিবর্তন এনেছিল, সেই জনগণ এখনো জেগে আছে।

জনগণের ন্যায্য অধিকার জনগণের হাতে তুলে না দেওয়া পর্যন্ত ১১ দল এবং জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে ও দুঃশাসন চালাতে চাইলে বিরোধী দল অতীতের মতো লড়াই করে যাবে।

যুবসমাজকে দেশপ্রেম ও ইমানের হাতিয়ার আবার শাণিত করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘যেমন আগে নেমেছি, এখনো আবার নামব এবং জনগণের এই দাবি আমরা আদায় করে ছাড়ব, ইনশা আল্লাহ।’

সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির কথা তোলা হয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদে যাঁরা বলেছেন, তাঁদের কাছে আমরা টিকিট চাইব। যে ওই টিকিট, একটা টিকিট হলেও আমাদেরকে দেন। দেখি ওই টিকিটটা কে ইস্যু করল। আমরা একটু দেখতে চাই। হ্যাঁ, কাউকে বোকা ভাবার কোনো কারণ নেই। আমিই শুধু জ্ঞানী, আমিই শুধু চালাক, আর বাকি সমস্ত লোক গবেট (মূর্খ), এটা যেন কেউ চিন্তা না করে।’

‘মনে হয়, উদ্বৃত্ত তেলের ওপর ভাসছে দেশ’

বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীর মিলিয়ে (ব্লেন্ডেড) ক্লাস চালু করার চিন্তা করছে সরকার। সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর ক্লাস করার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

বিষয়টির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ‘সে (শিশু শিক্ষার্থী) যখন স্বাধীন থাকবে, তারে দেখবে কে? সে যদি ডিভাইস টেবিলের ওপরে ফেলে রেখে দিয়ে খেলতে লাগে, তাও তো করার কিছু নেই। ঘুমাইয়া পড়ে, তাও করার কিছু নেই; যদি তারা খুনসুটি খেলে ভাইবোনেরা, তাও করার কিছু নেই। এভাবে মেধার অপমৃত্যু ঘটবে।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘যে সমস্যাটা এখন বিশ্বব্যাপী চলছে, এটা বাংলাদেশের সৃষ্ট নয়। আমরা বলছি যে আমরাও সহযোগিতা করতে চাই এ সমস্যা উত্তরণে। সরকার বলে কোনো সমস্যাই নেই। এমনভাবে বিবৃতি দেওয়া হয় সংসদের ভেতরে, মনে হয় যেন সমস্যা তো নেই–ই, বরং উদ্বৃত্ত তেলের ওপর ভাসছে বাংলাদেশ। লজ্জা।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা জিজ্ঞেস করেছি, তা–ই যদি হয় তাহলে একেকজন গাড়িচালক, একেকজন বাইকচালককে কেন তাহলে পেট্রলপাম্পের সামনে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার কেন লাইনে থাকতে হয়, কেন তাদের রোদে শুকাতে হয়, কেন তাদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়?’

জামায়াত আমির বলেন, সরকার বলছে, তেলের কোনো অভাব নেই। তবে এটা ঠিক, তেলের অভাব কার জন্য নেই সেটি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়নি। কারও কারও লোক ড্রাম ভর্তি করে নিজেদের ঘরে, বাঁশঝাড়ে, গোয়ালঘরে বিভিন্ন জায়গায় তেল রেখে দিয়েছে। ১২০ টাকা দামের তেল সেখানে গেলে ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এটা লজ্জার ব্যাপার, সরকার কেন সবাইকে নিয়ে খোলা মনে বসছে না। বাস্তব অবস্থা কেন তুলে ধরছে না। আমরা সবাই এই সংকট নিরসনের অংশীদার হতে চাই। আমরা তো সংকট তৈরি করতে চাই না। কিন্তু কি জানি শুধু একটা লুকোচুরি সব ব্যাপারে আমরা লক্ষ করি। কী যেন অস্পষ্টতা। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাব, এটা থেকে বের হয়ে আসুন।’