আমীর খসরু বলেন, ‘কোনো কিছু তো তাদের পক্ষে আসতেছে না। সব তাদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। যাওয়ার মতো কাজ করেছে দেখেই তো যাচ্ছে। এখানে বিএনপির কোনো দোষ নেই। আমাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে লাভ নেই।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এটা তো বিদেশিদের দায়িত্ব। এখানে যারা বসে আছে, কূটনৈতিক অফিসগুলো, এটা তাদের চাকরির অংশ। তাদের কাজের অংশ হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতির অবস্থা, মানবাধিকার, অধিকারের অবস্থা কী, বাক্‌স্বাধীনতা, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কী অবস্থা দেখা। সার্বিক রিপোর্ট তাদের হেডকোয়ার্টারে পাঠাতে হয়। রিপোর্ট যদি করতে হয়, তাহলে তো বাংলাদেশে জনগণের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’

‘আওয়ামী লীগ সরকারের হয়তো বিবেক নেই’ উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, ‘কিন্তু বিশ্ব বিবেক বলে তো একটা কথা আছে। আমরা তো সার্বজনীন জাতিসংঘের মানবাধিকার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছি। এসব অন্যায় ঢেকে রাখা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়।’

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘আবার বলবেন বিএনপি এ জন্য তদবির করছে। এখন আমি যদি বলি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে বলার জন্য তদবির করছেন। ক্ষমতায় রাখতে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গিয়ে তদবির করছেন। আবার কূটনীতিকদের ডেকে বিএনপির বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন। তারপরও যদি আপনারা মনে করেন তাঁদের (কূটনীতিকদের) কোনো দায়িত্ব নেই বলার, তাহলে কেন আপনার এগুলো করেন? এই কথাগুলো আমরা বলব, বিশ্বের মানুষ বলবে, সবাই বলবে। এখানে পানি ঘোলা করার কিছু নাই।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর ঢাকাতে জনসভা হবে। আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব হচ্ছে বিএনপির এই অধিকারকে সুরক্ষা দেওয়া। আমরা প্রত্যাশা করি, আপনারা সেই সুরক্ষা দেবেন।’

জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, এখন যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় সত্তরের নির্বাচনের থেকেও বিপুল ভোটে জিতবে বিএনপি। সুষ্ঠু নির্বাচন সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা যায় না। আওয়ামী লীগ সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

সভায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক প্রতিনিধিসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।