‘সরকার পরিবারের ইজ্জত রাখছে না’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরার বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ সমমনা কয়েকটি দলের নেতারা
ছবি: প্রথম আলো

গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসায় ঢুকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় ওই বাসায় গিয়ে মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছেন বিএনপির মিত্র কয়েকটি দলের নেতারা। প্রথমে মাহমুদুর রহমান ও জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা ওই বাসায় যান। পরে বাসায় গিয়ে রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমসহ সমমনা কয়েকটি দলের নেতারা।

এ সময় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছেন, সরকার কোনো পরিবারের ইজ্জত রক্ষা করছে না। তিনি বলেন, আইন যেহেতু বেআইনি লোকের হাতে, আইনের সেই মর্যাদা আর নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত বেআইনি লোক বেআইনিভাবে আইন পরিচালনা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।

এ সময় সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০–দলীয় জোটের আরও সাতজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) চেয়ারম্যান কারী মোহাম্মদ আবু তাহের ছিলেন।

সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম অভিযোগ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মধ্যরাত তিনটার সময় মির্জা ফখরুলের বাড়ি ঘেরাও করে চারদিকে বাতি বন্ধ করে তাঁর বাড়িতে ঢুকেছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার বেআইনি কাজ করছে তো করছেই। এই অশোভন কাজ করা থেকে সরকার বিরত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন

৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। পরদিন দিবাগত রাত তিনটার দিকে মির্জা ফখরুল ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে নিয়ে যান গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। পরে সংঘর্ষের ওই ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই দুই নেতা এখনো কারাবন্দী।

৩০ ডিসেম্বর বিএনপি ঘোষিত গণমিছিলে দলের নেতা–কর্মীদের নিয়ে যোগ দেবেন বলে জানান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। এ সময় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘অভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।’ দেশবাসীকে আরেকবার এই সংগ্রামে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন

এর আগে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সহধর্মিনীকে সহমর্মিতা জানান। পরে মির্জা ফখরুলের বাসা থেকে বেরিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান (মান্না) বিএনপির মহাসচিবকে গভীর রাতে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এত রাতে এসেছে, কোনো পরোয়ানা নাই। কিচ্ছু নাই। দারোয়ানরা দরজা খুলতে রাজি হয়নি। তাদের মারধর করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারেই প্রথম সারির একজন নেতা। তার বাড়িতে যদি দারোয়ানদের সাথে এমন আচরণ করা হয়, সারা দেশে তাহলে কী করে, সেটা তো আপনারা জানেন।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আমরা জানি, এই সরকারের কোনো মানবিকতাবোধ নাই। তারা লাগাতার মিথ্যা কথা বলে। আবার ওই মুখে এমন এমন কথা বলে আমরা নিজেরাই বেকুব হয়ে যাই।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে গিয়ে আমাদের যে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়েছে, ঘর থেকে বেরোতে পারিনি। চারদিকে পুলিশ, ভেতরে আটকে দেওয়া হয়েছে। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। তারপরও বলছেন আওয়ামী লীগ আসলেই কেবল জনগণ ভোটের অধিকার পায়।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্তরার বাসায় গিয়ে তাঁর স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে কথা বলেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা
ছবি: প্রথম আলো

মাহমুদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ গত দুই নির্বাচনে তো সরাসরি নির্বাচন ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। তারা গত ১০ বছরে ভোটপ্রথা বন্ধ করে ফেলেছে।

এ সময় গণতন্ত্র মঞ্চের অন্য নেতাদের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার, গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন