ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের সময় নির্ধারণ ও আদেশ জারি নিয়ে বড় রাজনৈতিক অনৈক্য তৈরি হয়েছে। এর সমাধানের রূপরেখা দিতে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষক ও গবেষক মোশাহিদা সুলতানার অভিমত।

মোশাহিদা সুলতানা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এর সমাধানের জন্য দলীয় স্বার্থের বাইরে এসে জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে ঐকমত্যে আসতে হবে। একদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে ঐকমত্যে আসার, অন্যদিকে যেহেতু সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল একটি গণতান্ত্রিক উপায়ে ঐকমত্য সৃষ্টির, তাই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার কাজটি সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে শেষ করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী দাবিদাওয়া সামনে আনবে, সেটা অনুমেয়। কিন্তু ন্যূনতম প্রত্যাশা ছিল যে তারা কিছু সংস্কারের প্রশ্নে ঐকমত্যে আসবে। এখন তারা যদি দলীয় স্বার্থের জায়গাগুলো ছাড়তে রাজি না হয়, তাহলেও সরকারকেই দায়িত্ব নিয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, তা যত কঠিনই হোক না কেন। কতগুলো বিষয় নিয়ে বিভিন্ন দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে। এগুলো বাদ দিয়ে জোর করে চাপিয়ে দিয়ে সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে ভাবলে তা–ও আসলে টেকসই হবে না।

আরও পড়ুন

আমরা মনে করি, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে আসা উচিত। আবার একই সঙ্গে মনে করি, গণভোটের মধ্য দিয়ে আরও বড় বিভাজনও তৈরি হতে পারে। সেই বিভাজন নিয়ে জাতি কীভাবে সামনে এগোবে, সেটা বলা কঠিন।

জুলাই সনদে অনেক ভালো ভালো বিষয় রয়েছে। আবার অনেক ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব বাদ পড়েছে। একটা সফল গণভোট হতে হলে শুধু ভোট সম্পন্ন করলেই হবে না, প্রতিটি বিষয় নিয়ে জনসচেতনতা থাকতে হবে। এখানে মানুষ যে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দেবে, অনেকেই জানবে না কে কী কারণে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিচ্ছে।

গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে যে অস্থিরতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, মানুষ এ থেকে মুক্ত হতে চায় একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনাটাও সরকারের দায়িত্ব।

অন্তর্দলীয় সংঘাত ও অন্য দলের সঙ্গে সংঘাত—এই ঘটনাগুলো সমাধান করতে হবে সংলাপের মাধ্যমে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।

আরও পড়ুন

নির্বাচনে সাধারণ মানুষকে যদি ভয় দেখানো হয়, তারা যদি ভোটকেন্দ্রে যেতে না চায়, এর দায় সরকারের ওপরই বর্তায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এখন থেকেই এ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে একটা ম্যাপিং করতে পারে যে কোথায় কোথায় সংঘাত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ঠিক করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন

গণ-অভ্যুত্থানে মানুষ যে পরিমাণ আত্মত্যাগ করেছে, এখন তাদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। বিভিন্ন দলের মধ্যে কিছু অসহিষ্ণুতা দেখতে পাচ্ছি। নানা ধরনের মব আক্রমণ চলছে, কিন্তু শাস্তি হচ্ছে না। মেহনতি মানুষের দাবিদাওয়াকে সরকার গণ্য করছে না। এগুলো মানুষের মধ্যে অস্থিতিশীলতার অনুভূতি বাড়িয়ে দেয়। আবার এই মব আক্রমণকে জায়েজ করছেন অনেকে। শিশু-কিশোরদেরও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেলে রাখা হয়েছে। অনেক অমানবিক ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতি মোটেই কাম্য নয়।