জনগণের ওপর দামের বোঝা চাপিয়ে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে: এবি পার্টি

দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। ঢাকা; ৬ জুন ২০২৬ছবি: এবি পার্টির সৌজন্যে

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, ক্যাপাসিটি চার্জ ও অস্বচ্ছ ভর্তুকি ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়ে এ খাতের কাঠামোগত সংস্কার এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান এ কথাগুলো বলেন। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং কার্যকর, বাস্তবায়নযোগ্য ও সংস্কারমুখী জাতীয় বাজেটের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, জনগণের স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে এবং অতীতের ভুল নীতির পুনরাবৃত্তি বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও লুটপাট বন্ধ করা কেবল সরকারের একার দায়িত্ব নয়; রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও সমাজের সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ সময় এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিষয়ে যেহেতু কিছু অভিযোগ উঠেছে, সরকারের উচিত হবে জেদাজেদির মধ্যে না গিয়ে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া।

আসন্ন বাজেটের বিষয়ে মজিবুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয়, কর্মসংস্থান–সংকট, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা, অর্থনৈতিক সংস্কার, জবাবদিহি ও উৎপাদনমুখী প্রবৃদ্ধিকে ভিত্তি করে বাজেট পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

‘কার্ডনির্ভর না করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আর্থিক খাতের মৌলিক সংস্কার ছাড়া কোনো কার্যকর বাজেট প্রণয়ন বা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আকারে বড় হলেও ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট বাস্তবসম্মত হতে পারে না।

আসাদুজ্জামান বলেন, বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব নীতিমালা নির্ধারণের সাংবিধানিক দায়িত্ব জাতীয় সংসদের হলেও বাস্তবে তা আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। বাজেট প্রক্রিয়াকে নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদকেন্দ্রিক করার দাবি জানান তিনি।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, জনগণকে ভর্তুকিনির্ভর বা কার্ডনির্ভর করার পরিবর্তে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীল অর্থনীতির বিকাশে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার এবং প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট বা প্লটের মালিকদের কর সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সরকারি ব্যয় নিয়েও সমালোচনা করেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন, সরকারের আকার ধীরে ধীরে ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ বন্ধ এবং উন্নয়ন ব্যয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যয় কমানোরও আহ্বান জানান এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক মতিয়ার রহমান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সহসম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা প্রমুখ।