২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে টঙ্গীতে ৮০ মেগাওয়াটের একটিমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেছিল উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র দুই দিন চলার পরই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ বিএনপি আমলে এ খাতে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। এসব কারণে আমি বিএনপিকে বলব এ নিয়ে কথা না বলে বরং আয়নায় নিজেদের চেহারাটা দেখতে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার পথ পরিহার করতে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ সালে সরকার গঠনের আগে দেশের মাত্র ৪০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সেটি আরও কম ছিল, কিন্তু আজকে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ-সুবিধার আওতায় এসেছে এবং প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে আমাদের সরকার বিদ্যুৎ-সুবিধা পৌঁছে দিয়েছে। গ্রামের মানুষ এখন বাড়িতে এয়ারকন্ডিশন ব্যবহার করে, ফ্রিজ-টেলিভিশন তো আছেই। ১৫ কোটি মানুষের মুঠোফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, থ্রি-হুইলারগুলো বৈদ্যুতিক চার্জে চলে। সেখানেও অন্তত শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়।’

বৈশ্বিক অবস্থা তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্বে জ্বালানিসংকটের কারণে জার্মানিতে পানি গরম করার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের অনেক দেশেই এ রকম করা হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় দু-একটি পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় রেশনিং করে বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে মানুষকে এসএমএস করে জানানো হয়েছে সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য।

এ সংকট সমগ্র পৃথিবীতে এবং বাংলাদেশ তো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়, সে কারণে এ দেশেও প্রধানমন্ত্রী সাশ্রয়ীভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে লোডশেডিং করতে হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আশা করি, এই পরিস্থিতি সহসা কেটে যাবে। কিন্তু এটি নিয়ে বিএনপি যেভাবে কথা বলছে, সেই নৈতিক অধিকার তাদের নেই।’

বিএনপির সমাবেশে বাধা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশে সরকার কখনো বাধা দেয়নি। আমরা চাই, বিএনপি সমাবেশ করুক। ঢাকা শহরেও সমাবেশ হচ্ছে। বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করুক, সভা-সমাবেশ করুক, গণতন্ত্রকে সংহত করুক। বিএনপি যেহেতু অতীতে বাস, ট্রাক, লঞ্চ পুড়িয়েছে, সে জন্য পরিবহনের মালিক-শ্রমিকেরা ধর্মঘট ডেকেছে। খুলনা, বরিশালেও যদি ডাকে, সে কারণেই ডাকবে।’

এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো পেশাজীবীদের, মালিকদের সংগঠন। সেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি—সবাই আছে। বিএনপি নেতারাসহ সবাই মিলে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্মঘট করার। কারণ, যদি তাদের বাস-লঞ্চ আবার পুড়িয়ে দেয়।’