সরকারের ইঙ্গিতেই আওয়ামী লীগ সারা দেশে মিছিল করেছে, অভিযোগ পরওয়ারের

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় সিরাত সেমিনারে মিয়া গোলাম পরওয়ার বক্তব্য দেনছবি: দলটির ফেসবুক পেজ থেকে

সরকারের ইঙ্গিতেই শুক্রবার আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সরকারের প্রশ্রয়–আশ্রয় না থাকলে, এখানে ইন্টেলিজেন্স আছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আছে, পুলিশ আছে, তার সমস্ত এজেন্সি রয়েছে ল-এনফোর্সিং এজেন্সি, তার সামনে প্রতিটি জেলায় তারা মিছিল করতে পারল। কেউ কি বিশ্বাস করবে যে সরকারের কোনো ইঙ্গিত এখানে নাই। নিশ্চয়ই আছে।’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় সিরাত সেমিনারে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর শ্রমনীতি: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আদর্শ’ শীর্ষক এই সিরাত সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।

সেমিনারে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাদেরকে জনগণ রক্ত দিয়ে বিতাড়িত করেছে, সেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, পলাতক আসামি খুনি হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়েছে, আর তাদের সঙ্গে গোপনে যদি এই সরকারের কোনো একটা অংশের সম্পর্ক না থাকবে, তাহলে কী করে গতকালকে (শুক্রবার) সারা বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগ মিছিল করতে পারল?’

দিল্লির সঙ্গে গোপনে সম্পর্ক নেই, প্রমাণ করতে হবে

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘যাঁরা রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আছেন, মুখে মুখে বলছেন আমরা আওয়ামীবিরোধী, ফ্যাসিবাদবিরোধী, ধরে আনব, বিচার করব। বিচার কোর্ট করতেছে, আর আপনারা বড় বড় আসামিদেরকে জামিন দিচ্ছেন, মিছিল করছে যারা, তাদের ধরতে পারছেন না। দিল্লির সঙ্গে গোপনে সরকারের ভেতরে কোনো অংশের যে সম্পর্ক নেই—আপনাদেরকে তা প্রমাণ করতে হবে।’

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ওদিকে, দিল্লি থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, উনি (শেখ হাসিনা) নাকি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন। আসেন, আসার জন্যই দেশবাসী প্রস্তুত হয়ে আছে।...পলাতক আসামি হিসেবে যে সাজা হয়েছে, দেশে এসে সেই সাজাই কিন্তু ভোগ করতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামীকে সামাল দিতে সরকারের একটি অংশ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নামে দলটির কিছু নেতাকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘এই সর্বনাশা পথ থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে।’

গণ–অভ্যুত্থানের পর জনগণ বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও ক্ষমতাসীন সরকার ফ্যাসিবাদের দিকে ধাবিত হতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন আমাদের চব্বিশের রক্তদান বৃথা চলে যাবে।’

ফ্যাসিবাদীদের এ দেশের মাটিতে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ না দিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে থাকা দলগুলোকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

জামায়াত সেক্রেটারি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনের আগে তারা (বিএনপি) অঙ্গীকার করেছিল, ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইনের বাইরে কোনো আইন করবেন না, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তারা পারিবারিক আইন, হেবার আইন পরিবর্তন করে কোরআনের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। তারা গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও ভঙ্গ করেছে।

আজকের সেমিনারে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সহসভাপতি হারুনুর রশীদ খান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম, সংসদীয় মুখপাত্র নাজিবুর রহমান মোমেন, শেরপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।