ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন সাদিক কায়েম, আছেন ভোটের আলোচনায়
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)। তিনি আজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়েছেন। মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
আজ সোমবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব থেকে বিদায়ের কথা জানান সাদিক কায়েম। ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সঙ্গে।’
জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে কাটানো সময়কে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও ফলপ্রসূ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে সংগঠনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সাদিক কায়েম। একই সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের জন্য দোয়া করেন তিনি।
জামায়াতের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত মাসে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদের জন্য ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক জামায়াত নেতা জানিয়েছেন, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পরিষদ মজলিশে শুরার বৈঠকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ আজ বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, শিবির তাদের সাংগঠনিক রীতি ও নিয়ম অনুযায়ী চলে। ছাত্রজীবন শেষ করলে, বিয়ে ও কর্মজীবনে প্রবেশ করলে শিবির থেকে বিদায় নেওয়ার রেওয়াজ আছে। সে কারণে সাদিক কায়েম বিদায় নিতে পারেন।
জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্যই সাদিক কায়েম শিবির থেকে বিদায় নিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা থেকে সাদিক কায়েমকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় জামায়াতও এ বিষয়ে পজিটিভ (ইতিবাচক)। সময়–সুযোগমতো ঢাকা দক্ষিণসহ সব সিটি করপোরেশনের প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আজ বিকেলে সাদিক কায়েম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নিয়মতান্ত্রিক উপায়েই সংগঠন থেকে ছুটি নিয়েছি। বাকিটা সময় বলে দেবে সামনে কী হবে।’
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এবারই প্রথম শিবির থেকে ছুটি নেওয়া হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। এর আগেও নানা কারণে সব কমিটিতেই কিছু নেতার ছুটি নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরও প্রায় ২০ জন নেতা মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন। তবে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমের বিদায়ের কারণে এবার বিষয়টি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে। তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হবেন বলেই ছুটি নিয়েছেন—এমন আলোচনা আছে।
শিবিরের কমিটি গঠনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে আবার পুনর্গঠন করা হয় বলে জানান সংগঠনটির এই নেতা। তিনি বলেন, ছাত্রজীবন শেষ হয়ে গেলে, বিয়ে বা কর্মজীবনে প্রবেশ করলে অনেক নেতাই ছুটির জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি বরাবর ছুটির আবেদন করেন। ছয় মাস পর প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সভাপতি ছুটির আবেদন অনুমোদন করেন। আবার অনেক নেতাকে সংগঠনের কাজে লাগানোর জন্য কমিটিতে রেখে দেন। এরপর কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। এবারও তা–ই করা হয়েছে।
বিদায় নিলেন শিবিরের আরও ৮ নেতা
সাদিক কায়েম ছাড়াও শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির আট নেতা সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছেন। তাঁরা হলেন কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক শরীফ মাহমুদ, ছাত্র অধিকার সম্পাদক মুহিবুর রহমান, প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক নুরুল হুদা, পাঠাগার সম্পাদক আরাফাত হোসেন, বিতর্ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও দাওয়াহ সম্পাদক শাহীন আহমেদ।
ছাত্রশিবির থেকে ছুটি নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সম্পাদক মুতাসিম বিল্লাহ আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের সংগঠনের নিয়ম হলো, পড়াশোনা শেষ হয়ে গেলে সবাই ছুটি নিয়ে পেশা জীবন শুরু করতে চায়। আমিও স্বাভাবিক সাংগঠনিক রীতি অনুসরণ করেই ছুটি নিয়েছি।’