সিলেটে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা: রাতেই হাজারো নেতা-কর্মীর অবস্থান, চলছে স্লোগান
কখনো ধানের শীষ, কখনো বিএনপি আবার কখনো তারেক রহমানের নামে স্লোগান চলছে। খণ্ড খণ্ড হয়ে কিছু মিছিলও এসে মাঠে ঢুকছে। নেতারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তদারক করছেন। দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন মাঠে থাকা শামিয়ানার নিচে খাচ্ছেন, কেউবা জড়সড় হয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছেন।
বুধবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে এমন দৃশ্য দেখা গেছে সিলেট নগরের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে। রাত পোহালেই এখানে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর এবং সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষও বাড়ছে। শীত উপেক্ষা করে মাঠে থাকা লোকজন স্লোগানে স্লোগানে চারপাশ মুখর করে তুলছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন সংসদীয় আসনে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থনে তাঁদের নামসংবলিত টি-শার্ট ও টুপি পরে ঘুরছেন। ‘গুম হওয়া’ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান চেয়েও অনেকে স্লোগান দিচ্ছেন। মাঠের বাইরে বিএনপির পতাকা, জিয়াউর রহমানের ছবিসংবলিত মাফলার, প্লাস্টিকের ধানের শীষ ও তারেক রহমানের ছবিসংবলিত ব্যাজ বিক্রি করছেন অনেকে। আশপাশের রাস্তাজুড়ে সাঁটানো হয়েছে ফেস্টুন, ব্যানার। নির্মাণ করা হয়েছে তোরণও।
একটা শামিয়ানার নিচে হাজারো মানুষকে ত্রিপল বিছিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জৈন্তাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোক্তার আহমদ ও সহসভাপতি নজমুল ইসলাম। তাঁরা জানান, তাঁরা সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনের বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর সমর্থক। জৈন্তাপুর উপজেলা থেকে তাঁরা দুই হাজার মানুষ আগের রাতেই এসেছেন। সকালে আরও অনেকে আসবেন। যেহেতু সকালে জনসভা শুরু হবে, তাই আগেই চলে এসেছেন।
সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত জনপদ শাল্লা উপজেলা থেকে এসেছেন বিএনপি নেতা সাইফুর রহমান। মধ্যরাতে মাঠেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে। উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে যখন বিএনপির সভা-সমাবেশ হতো, তখন পুলিশ ধরপাকড় করত। লুকিয়ে আমরা জনসভায় আসতাম। অনেক বছর পর কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই এবার জনসভায় এলাম। অনেক দিন পর লিডারকে দেখতে পাব, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে।’
মাঠে থাকা বিএনপির একাধিক নেতা-কর্মী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জনসভা শুরু হবে। তাই দূরের নেতা-কর্মীরা এরই মধ্যে সিলেট নগরে এসে পড়েছেন। অনেকে হোটেল ও পরিচিতজনদের বাসায় ঠাঁই নিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকে বাসে করে রওনা হয়েছেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাই নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিও বাড়ছে। যেহেতু দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভা এবং দলের চেয়ারম্যানও এসেছেন, তাই লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠবে জনসভা।
স্থানীয় বিএনপি জানিয়েছে, জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আকাশপথে বুধবার রাত আটটার দিকে সিলেটে আসেন। পরে তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পাশাপাশি তিনি হজরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন। পরে তিনি নগরের উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে যান।
স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা জানান, সর্বশেষ ২০০৫ সালে তারেক রহমান সিলেটে আসেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি সিলেটে এসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন। বিএনপির প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভা করতেন।
যোগাযোগ করলে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেহেতু সকালে জনসভা, তাই আগের রাতে দূরের নেতা-কর্মীদের জনসভাস্থলে আসার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য অনেকেই রাতে এসে মাঠে ঠাঁই নিয়েছেন। মাঠে রাত কাটানোর জন্য শামিয়ানা টানিয়ে ব্যবস্থা করা হয়েছে।’