বিশিষ্টজনদের সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের নামও যুক্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সময় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনেছবি: পিআইডি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি–বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। পরে শোকপ্রস্তাবে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতা এবং বিএনপির এক নেতাসহ আরও কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম যুক্ত করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম দিনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে রেওয়াজ অনুযায়ী শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে খালেদা জিয়াসহ দেশি–বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত এবং মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব আনা হয়।

শোকপ্রস্তাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নাম উল্লেখ করা হয়। শোকপ্রস্তাবে মতিয়া চৌধুরী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, রমেশচন্দ্র সেন, মাহমুদুল হাসানসহ আরও কিছু রাজনীতিকের নাম রয়েছে।

শোকপ্রস্তাব উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম কয়েকটি নাম যুক্ত করার অনুরোধ জানান। তাঁর প্রস্তাবে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়াও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমানের নাম যুক্ত করার কথা বলা হয়। পরে স্পিকার তা অনুমোদন করেন।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে বলেন, শোকপ্রস্তাবে কিছু নাম বাদ পড়েছে। সেগুলো বলার জন্য তিনি বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে অনুরোধ করেন। এরপর তাহের বলেন, শোকপ্রস্তাব একপেশে করে তৈরি করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত করতে আরও সচেতন হওয়া দরকার। তিনি আরও কয়েকজনের নাম বলে সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্যে মতিউর রহমান নিজামী, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আবদুস সোবহান, শেখ আনছার আলী, রিয়াসাত আলী, আবদুল খালেক মণ্ডল, হাফেজা আছমা খাতুন, রোকেয়া আনছার, সুলতানা রাজিয়া, রাশেদা খাতুন, আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, এ কে এম ইউসুফ, নাজির আহমেদ, কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলীর নাম আসে। একই সঙ্গে তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনা প্রসঙ্গে শোকপ্রস্তাবে ‘জামায়াতে ইসলামী’র বদলে ‘হেফাজতে ইসলাম’ বলা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রসঙ্গ টেনে তাহের সেখানে ‘প্রায় দুই হাজার শহীদের’ কথা বলেন এবং শরিফ ওসমান হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। জবাবে স্পিকার বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা যাঁদের নাম বলেছেন, সেগুলো শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। স্পিকার আরও জানান, শোকপ্রস্তাবে ছালেহা খানম, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, কামাল ইবনে ইউসুফ ও নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর নামও যুক্ত করা হবে।

পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তী, এম এ মতিন, মুজিবুর রহমান মঞ্জু, আনোয়ারুল হোসেন খান এবং এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন। আর কোনো সাবেক সংসদ সদস্য বা বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ পড়লে তা সংসদ সচিবালয়কে জানাতে বলেন তিনি।

এরপর বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শোকপ্রস্তাবে শরিফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নামও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেন। স্পিকার জানান, এসব নামও যুক্ত হবে। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহারিয়ার খান আনাস, মেহেদি হাসান জুয়েল, ফারহান ফাইয়াজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বরেণ্য নাগরিকদের নামও শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অধিবেশনে আলোচনা শেষে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়।