আর্থিক দুরবস্থার পাশাপাশি একটি দলের কর্মীদের ব্যঙ্গবিদ্রূপের কারণে নির্বাচনী প্রচার চালাতে কিছুটা সংকোচ বোধ করছেন ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী মো. আকতার হোসেন। এরপরও ৫ থেকে ১০ হাজার ভোট পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
আকতার হোসেন ‘হারিকেন’ প্রতীকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। তাঁর সঙ্গে গত মঙ্গলবার মুঠোফোনে কথা বলেছে প্রথম আলো। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা লিফলেটের মাধ্যমে কিছু প্রচার শুরু করেছিলাম। তখন আমাদের ব্যঙ্গোক্তি করা হয়েছে এই বলে যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলে মারা গেছে। এটারে আবার এখন...আমাদের ভোট নষ্ট করার জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। এতে আমাদের কর্মীরা একটু ভীতসন্ত্রস্ত।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা নিয়ে ঢাকা–৬ আসন। পুরান ঢাকার এই আসনে ভোটার প্রায় তিন লাখ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে জয়–পরাজয় বড় বিষয় নয়, মানুষকে সচেতন করতেই প্রার্থী হয়েছেন বলে জানান গণফ্রন্টের আহম্মেদ আলী শেখ। তিনি মাছ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
আহম্মেদ আলী শেখ পেশায় আইনজীবী। তিনি বলেন, জনসংযোগ করছেন, মানুষের কাছে যাচ্ছেন, নাগরিকের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করছেন।
প্রথমে আমরা লিফলেটের মাধ্যমে কিছু প্রচার শুরু করেছিলাম। তখন আমাদের ব্যঙ্গোক্তি করা হয়েছে এই বলে যে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ব্রিটিশ আমলে, পাকিস্তান আমলে মারা গেছে। এটারে আবার এখন...আমাদের ভোট নষ্ট করার জন্য প্রচারণা শুরু করেছে। এতে আমাদের কর্মীরা একটু ভীতসন্ত্রস্তঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী মো. আকতার হোসেন
মঙ্গলবার এই আসনের নারিন্দা, মুরগিটোলা মোড়, ধোলাইখাল, লক্ষ্মীবাজার, কলতাবাজার, কোর্ট–কাছারি, রায়সাহেব বাজার ও বংশাল এলাকা ঘুরেছেন এই প্রতিবেদক। এসব এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড বেশি দেখা গেছে। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো. আবদুল মান্নান।
এই আসনে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম। আর্থিক অসংগতির কারণে সেভাবে ব্যানার–ফেস্টুন করতে পারেননি বলে জানান তিনি।
ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকার ৯ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলছেন, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার দুই প্রার্থী ছাড়া অন্যরা সেভাবে পরিচিত নন।
তবে ডাব প্রতীকে নির্বাচন করা বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. ইউনূস আলী আকন্দ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমারে চিনে না কে? না চেনে বাংলাদেশে কেউ আছে?...সারা বাংলাদেশের সচেতন মানুষ সবাই চেনে।…পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আমলা, পলিটিক্যাল পার্টির নেতারা—সবাই আমাকে চেনে।’
এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির উদ্দিন আহমেদ। তাঁর প্রতীক লাঙ্গল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রচার–প্রচারণা যেভাবে চালানো দরকার, সেভাবে চালাতে পারছি না। বড় দলের প্রার্থীদের প্রচুর টাকা। আমরা তো গরিব প্রার্থী, গরিব দল। তারপরেও মসজিদ–মাদ্রাসায় যাচ্ছি। মানুষের কাছে ভোট চাইছি।’