সিইসি বলেন, ‘আমরা সহিংসতা বন্ধ করতে পারব না। আপনাদেরও (রাজনৈতিক দলের) দায়িত্ব নিতে হবে। কারণ, খেলোয়াড় কিন্তু আপনারা। আপনারা মাঠে খেলবেন, আমরা রেফারি। আমাদের অনেক ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা কিন্তু কম না, ক্ষমতা প্রয়োগ করব। আমি আপনাদের স্পষ্ট করে জানাতে চাইছি, ’১৪ সালের নির্বাচন আমাদের ওপর চাপাবেন না, ’১৮ সালের নির্বাচনের দায় আমাদের ওপর চাপাবেন না। আমরা আমাদের নির্বাচনের দায় আমরা বহন করব। নির্বাচনটাকে অংশগ্রহণমূলক করতে আমরা সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করব এবং নিরপেক্ষ করতে। সব দল সহযোগিতা না করলে আমরা সেখানে ব্যর্থ হয়ে যাব।’

সিইসির বক্তব্যের পাল্টায় এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, শটগান নিয়ে দাঁড়ানো বিষয়টি আইন সমর্থন করে না। তবে এর জবাবে সিইসি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশে একটিমাত্র দলের ৩০০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই। তবে ইতিহাস বলে, সে ক্ষেত্রে অচিরেই গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হবে। স্বৈরতন্ত্র মাথা জাগিয়ে তুলবে
সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘নির্বাচনের সময় যেটি থাকবে, সেটি কিন্তু সরকার। আমি বারবার বলেছি, রাজনৈতিক দল আর সরকার এক নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উনি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। কিন্তু যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী, তখন তিনি সরকারপ্রধান, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী নন। এটি বুঝতে হবে। আমরা সরকারের সাহায্য চাইব। সরকার যদি সহায়তা না করে, তাহলে নির্বাচনের পরিণতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে।’

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘ইতিপূর্বে আমরা বহুবার বলেছি, যেসব রাজনৈতিক দল, বিশেষত প্রধান দলগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া খুবই প্রয়োজন। কোনো দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে অবশ্যই বাধ্য করতে পারব না। তবে সব দলকে কার্যকরভাবে অংশ নিতে আমরা বারবার আহ্বান করে যাব। সে প্রচেষ্টা আমরা অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজও আপনাদের মাধ্যমে সব দলকে আহ্বান জানাচ্ছি সক্রিয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতা না থাকলে জনমতের সঠিক প্রতিফলন হয় না। পক্ষ-প্রতিপক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঠপর্যায়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সম্ভাব্য অনিয়ম, কারচুপি, দুর্নীতি, অর্থশক্তি ও পেশিশক্তির প্রয়োগ ও প্রভাব বহুলাংশে নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণ, সহযোগিতা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করতে চায়। অন্যথায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আমাদের প্রয়াস যতই আন্তরিক হোক, ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে। সেটা কাম্য নয়।’

সিইসির বক্তব্যের পাল্টায় এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বলেন, শটগান নিয়ে দাঁড়ানো বিষয়টি আইন সমর্থন করে না। তবে এর জবাবে সিইসি আর কোনো মন্তব্য করেননি।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, বাংলাদেশে একটিমাত্র দলের ৩০০টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে সাংবিধানিকভাবে কোনো বাধা নেই। তবে ইতিহাস বলে, সে ক্ষেত্রে অচিরেই গণতন্ত্রের অপমৃত্যু হবে। স্বৈরতন্ত্র মাথা জাগিয়ে তুলবে। গণতন্ত্রের আরাধ্য পুনরুদ্ধার হয়ে পড়বে দুরূহ।

সিইসি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে পাঁচ থেকে সাতটি কর্মশালা করার পর আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এবং বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত সভা করেছি। কেউ কোনো ত্রুটি দেখাতে পারেনি। ইভিএম ও ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধা-অসুবিধা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’ আরপিও ২৬ অনুযায়ী, কারচুপির বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো প্রতিপালন করা হলে কারচুপি প্রতিরোধ করা সম্ভব বলেও জানান সিইসি।

এত কিছুর পরও অপপ্রচার সমানে চলছে উল্লেখ করে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ইভিএম সম্পর্কে বিভ্রান্তি–সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আমরা সত্যি উদ্বিগ্ন হচ্ছি। কেন্দ্রে কেন্দ্রে অনিয়ম, সহিংসতা, ব্যালট পেপার ছিনতাই হলে প্রতিরোধ কতটা সম্ভব হবে! আমাদের প্রত্যাশা, জাতীয় নেতৃবৃন্দ ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে নিবিড়ভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা ও মতৈক্য হয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর নিরসন করে আগামী সাধারণ নির্বাচনের জন্য অনুকূল পরিবেশ ও সমতল ভিত্তি সৃষ্টি করবেন।’

সিইসি আরও বলেন, ‘অরাজনৈতিক সর্বজনশ্রদ্ধেয় ব্যক্তিরা সংগঠিত হয়ে এগিয়ে এসে জাতির একটি সংকটময় মুহূর্তে তাঁদের প্রজ্ঞা ও জ্ঞান প্রয়োগ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংলাপে আহ্বান করে আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক মতৈক্য সৃষ্টিতে অবদান রাখতে পারেন। আমরা নির্বাচন করতে চাই অনুকূল পরিবেশ ও শক্ত ভিত্তির ওপর। এ জন্য সবার সহায়তা কাম্য।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন