প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজপথে পাল্টাপাল্টি সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদে যাওয়া না-যাওয়ার প্রসঙ্গটি আলোচনায় আসে গত শনিবার। এ দিন রংপুরে গণসমাবেশ কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের দাবি একটাই, এই সরকারকে পদত্যাগ এবং নির্দলীয় সরকারের অধীন নির্বাচন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা যে কোনো সময় জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুত। কেবল দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তাঁরা।

এই বক্তব্যের পরদিন গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সেটার মানে দাঁড়ায়, বিএনপির সংসদ সদস্য মাত্র সাতজন, তাদের পদত্যাগে খুব একটা সমস্যা হবে না।

ওবায়দুল কাদের এমন বক্তব্যের ১০ ঘণ্টার মাথায় রাত সাড়ে ৮টায় জানা গেল জাতীয় পার্টি আজ সোমবার থেকে সংসদে যাবে না। গতকাল সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এদিন দলটি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি অবশ্য ভিন্ন। দলীয় প্রধান জি এম কাদেরকে বিরোধী দলীয় নেতা করার বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সংসদে যাবে না। ২৬ আসন নিয়ে দলটি সংসদের প্রধান বিরোধী দল হিসাবে আছে।

অবশ্য আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষি মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাকের মনে করেন, জাতীয় পার্টির সংসদ বর্জনের সিদ্ধান্ত বড় কোনো রাজনৈতিক সংকটের কারণ হবে না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ ঝামেলা থেকে সৃষ্ট। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মিটিয়ে নেবে বলে মনে করি।’

আওয়ামী লীগের নেতারা মুখে যা-ই বলুক রাজনৈতিক উত্তাপকে যে বাড়ছে, সেটা ক্রমশই প্রকাশ্যে আসছে। বিএনপির রংপুরের সমাবেশের দিন আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলা সম্মেলনে বড় জমায়েত করাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে কার্যত জাতীয় নির্বাচনের ১৪ মাস আগেই মাঠ দখলের রাজনীতি এবং রাজপথে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে গেছে। সামনে বিএনপির যেসব গণসমাবেশ কর্মসূচি আছে, একইদিন আওয়ামী লীগেরও কোথাও না কোথাও কর্মসূচি থাকবে। আগামী ৫ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির সমাবেশ, ওই দিন কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের মহানগর সম্মেলন। যদিও এটাকে পাল্টাপাল্টি স্বীকার করতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ।

এখন রাজপথের আন্দোলনের উত্তাপ জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়াচ্ছে কি না, এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ চৌধুরী গতরাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় পার্টির বিষয়টি জানি না। তবে আমরা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। এই আন্দোলন গতিশীল করতে আমাদের যে কয়জন সংসদ সদস্য আছেন, তাঁরা পদত্যাগ করবেন। কারণ আমরা সংসদ বাতিল চাই।’