রাজশাহী থেকে রংপুরগামী বাস চলাচল দুই দিন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, রংপুরের বাসমালিকদের পক্ষ থেকে তাঁদের রংপুরে বাস না চালানোর জন্য বলা হয়েছে। এ কারণে তাঁরা বাস চলাচল দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) বন্ধ রাখবেন।

এরই মধ্যে বরিশালে বিএনপির সমাবেশের দিন ও এর আগের দিন অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাসমালিকদের সংগঠন বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপ। তারাও কারণ হিসেবে মহাসড়কে তিন চাকার অবৈধ যান ও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল বন্ধের দাবির কথা বলেছে। বরিশালে আগামী ৫ নভেম্বর বিভাগীয় গণসমাবেশের দিন ঠিক করেছে বিএনপি।

বাস চলাচল বন্ধ করা হবে, এটা আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম। কারণ, ময়মনসিংহ ও সর্বশেষ খুলনায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সরকার গণসমাবেশ বানচাল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করতে পারেনি।
সামসুজ্জামান, আহ্বায়ক, রংপুর মহানগর বিএনপি

এর আগে ময়মনসিংহে (১৫ অক্টোবর) কর্মসূচির দিন ধর্মঘট ডাকা না হলেও বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে বাধা দেন। এরপর খুলনায়ও (২২ অক্টোবর) কর্মসূচির দুই দিন আগে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। পাশাপাশি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সমাবেশমুখী লোকজনকে ঠেকাতে কিছু জায়গায় বাধা ও হামলার অভিযোগ ছিল।

বাস ধর্মঘটের বিষয়ে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান বলেন, ‘বাস চলাচল বন্ধ করা হবে, এটা আমরা প্রায় নিশ্চিত ছিলাম। কারণ, ময়মনসিংহ ও সর্বশেষ খুলনায় এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে সরকার গণসমাবেশ বানচাল করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা করতে পারেনি। ঠিক একইভাবে রংপুরের গণসমাবেশেও মানুষের বিপুল উপস্থিতি ঘটবে।’

রংপুর নগরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির গণসমাবেশের স্থান ঠিক করা হয়েছে। এ জন্য জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সামসুজ্জামান। গতকাল তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সমাবেশ সফল করার জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুর এবং বিভাগের জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রস্তুতিমূলক সভা করেছেন। আগামীকালের সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হবে।

বাস মালিক সমিতির নেতারা বিএনপির সমাবেশকে বানচালের উদ্দেশে ধর্মঘট ডাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁরা বলছেন, মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন তিন চাকার অবৈধ যান চলাচল বন্ধ ও রংপুর-কুড়িগ্রাম রুটে হয়রানির প্রতিবাদে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

রংপুর জেলা মোটর মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাবুজ্জামান বলেন, মহাসড়কে ভটভটি, নছিমনসহ তিন চাকার গাড়ি চলাচল করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ি বন্ধের জন্য বিভিন্ন সময় দাবি জানানো হলেও এসব দাবি পূরণ করা হচ্ছে না। তাই তাঁরা ধর্মঘট ডেকেছেন। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে বাস বন্ধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

সমাবেশ ঘিরে বিএনপির প্রস্তুতি

বিএনপির গণসমাবেশ উপলক্ষে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আজ সকালের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিবের নেতৃত্বে গণসমাবেশ সফল করতে চলছে নানামুখী কর্মকাণ্ড।

আসাদুল হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, পরিবহন বন্ধ রাখা হলেও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকে হেঁটে কিংবা বিকল্প ব্যবস্থায় দলের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও সংগঠকেরা গণসমাবেশে উপস্থিত হবেন। সমাবেশ সফল করতে সব প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতারা বিভাগের আট জেলা সফর করে রংপুরে এসে পৌঁছেছেন।

‘রংপুর বিভাগকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল’

বগুড়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আমিনুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, তাঁদের এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত দুপুরেই হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রংপুরে বিএনপির সমাবেশকে ঘিরে বাস চলাচল বন্ধ রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কেউ চাপ দেয়নি। তবে রংপুরের বাসমালিকেরা যেহেতু ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন, এ কারণে শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং গাড়ি ভাঙচুরের আশঙ্কা থেকে দুই দিন বাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, ‘নেতা-কর্মীরা যাতে রংপুরের সমাবেশে যেতে না পারেন, এ কারণেই সরকার নানা কৌশলে রংপুর বিভাগকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশল নিয়েছে।’ কোনো কৌশলই সফল হবে না, এমন দাবি করে তিনি বলেন, রংপুরের জনসমাবেশও জনসমুদ্রে পরিণত হবে।