আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের বৈঠকের শুরুতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের একটা উপজেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ওখানে ছোটখাটো একটা ঘটনা ঘটেছিল। বিদ্রোহীরা মঞ্চে বসা, কিন্তু পরবর্তী সময়ে সম্মেলন সুন্দরভাবে শেষ হয়েছিল। সকালে পত্রপত্রিকায় দেখলাম একজন মারা গেছে। এটা মৃত হওয়ার সুবাদে প্রথম পাতায় উঠে আসছে। সম্মেলনের আশপাশে কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আজমল হোসেন দুবাইয়ে ছিলেন। তিনি দেশে এসেছিলেন। তাঁর বাড়ি সম্মেলনস্থল থেকে অনেক দূরে। আজমল সম্মেলনের ধারেকাছে ছিলেন না।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘একটা ঘটনা ঘটেছে। একটা লোক দুবাই থাকে। সে দেশে আসছে। সে তার বাড়িতে ছিল। বাড়ি ওখান থেকে অনেক দূরে। সম্মেলনে ঘটনা ঘটেছে একটায়। তিনটা বাজে ওর পরিবার ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।’

সম্প্রতি ছয়টি জেলা সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কোথাকার সম্মেলনে আমাদের এ ধরনের গোলমাল হয়েছে? একটা জেলা সম্মেলন, কুমিল্লা যেটা হয়েছে, সেটা সম্মেলন থেকে অনেক দূরে। ওই চৌরাস্তার মোড়। তা–ও তো সেখানে মারামারিও হয়নি। কিছুই হয়নি। পটকা–পাটকা ফুটাইছে। তা–ও সম্মেলন ভেন্যু থেকে দূরে। এগুলো আপনারা (সাংবাদিক) একটু খেয়াল রাখবেন।’

এভাবে যদি নিউজ করেন পুরোপুরি অবহিত না হয়ে, যদি কেউ মারা যায় সম্মেলনে, সে ক্ষেত্রে তো প্রমাণ থাকবে। স্ট্রোক করেছে আপনারা (সাংবাদিক) খবর নেন
ওবায়দুল কাদের

বিরোধী দল বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের প্রতি ইঙ্গিত করে এই আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘বিরোধী দল হলে চার দিন আগে আসতেছে, লঞ্চে আসতেছে, নৌকায় আসতেছে, হেঁটে আসতেছে। দেন এটা আপনাদের ইচ্ছা। আমাদের এগুলো বারণ নেই। এগুলো আপনাদের ব্যাপার। পত্রিকার পলিসির ব্যাপার। কিন্তু আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা খবর দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন। এটা আমার অনুরোধ। ইটস এ ফলস (মিথ্যা)। এটা ভুল। এখন আপনারা খবর নিতে পারেন। কী কারণে লোকটার মৃত্যু হয়েছে।’

সভায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে পৌনে দুই বছর পর এই সভা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সংঘর্ষে আহত হয়ে পরে মারা যান আজমল হোসেন (৩৫)। তিনি কুলঞ্জ গ্রামের আবদুল হান্নান চৌধুরীর ছেলে। তিনি দিরাই সদরের হাসপাতাল রোডে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলেছেন, আজমল হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

নিহত আজমলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, সমাবেশস্থলে সংঘর্ষ চলাকালে তাঁর পিঠে ঢিল লাগে। এরপর তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে অনেকের ভিড়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। বাসায় চলে আসেন। পরে তিনি অস্থিরতা বোধ করতে থাকেন। এ অবস্থায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।