যুবদল আজ বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি মোড় থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে যুবদলের চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ দিশেহারা। এখন ডিজেল, পেট্রল, কেরোসিন ও অকটেনের মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে জনগণের ওপর। এখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পড়তির দিকে। বাজার পর্যবেক্ষণ না করে কেবল আইএমএফের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, যা অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। এই বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বেকার সমস্যা আরও প্রকট হবে। যাত্রী ও পণ্যবাহী পরিবহনে ভাড়া বেড়ে যাবে কয়েক গুণ বেশি।

বিকেলে নগরের সিনেমা প্যালেস চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সিপিবির সমাবেশ। সেখানে নেতারা বলেন, দুর্নীতি-লুটপাট ও টাকা পাচার ঠেকাতে ব্যর্থ সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই সরকার জনগণের ভোটের তোয়াক্কা করে না। জনমতকেও তোয়াক্কা করে না। এ জন্য জনগণের দুর্ভোগে তাদের বিবেক জাগ্রত হয় না। হঠাৎ করে এক লাফে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ৫০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। সরকার আইএমএফ, সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী এবং দেশীয় লুটেরাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এই দুঃশাসন অবসানের জন্য সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবির চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি অশোক সাহা। সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সহকারী সাধারণ সম্পাদক নূরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য উত্তম চৌধুরী, নারীনেত্রী রেখা চৌধুরী, সিপিবি দক্ষিণ জেলার সহকারী সাধারণ সম্পাদক সেহাব উদ্দিন, যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রাশিদুল সামির প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

জ্বালানি তেল ও পানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাসদ (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা। বিকেলে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে এই সমাবেশ হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলার সদস্যসচিব শফি উদ্দিন কবির, সদস্য আসমা আক্তার, জাহেদুন্নবী কনক ও দীপা মজুমদার। সমাবেশে বক্তারা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশে দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী নয় বরং নিম্নমুখী। এখন দ্রুত তেলের দাম কমে যাচ্ছে। চাহিদার প্রায় অর্ধেক অকটেন ও শতভাগ পেট্রল দেশেই উৎপাদিত হয়। এভাবে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন