নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদারদের প্রশ্রয় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখল হতে দেব না, কোনো দখলবাজকে প্রশ্রয় দেব না। জনগণ ভোটে জয়যুক্ত করে আমাকে সময় দিলে ঢাকা-৭ আসনকে সুন্দর করে সাজাতে চাই।’
শনিবার বিকেলে রাজধানীর লালবাগের ওয়াটার ওয়ার্কস রোডে পোস্তা মোড়ে এক নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির এই প্রার্থী এ কথা বলেন। এলাকার বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসায় সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৭ আসনে গ্যাস, জলাবদ্ধতা ও যানজটের সমস্যা অনেক দিনের। জনগণের ভোটে জয়যুক্ত হলে আমি সর্বপ্রথম গ্যাসের সমস্যা সমাধান করব।’
লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর (আংশিক) ও কোতোয়ালি থানা (আংশিক) নিয়ে গঠিত ঢাকা-৭ আসন। এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পরে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।
লালবাগের পোস্তা মোড়ে তাঁর সমর্থনে জনসভার আয়োজন করে চকবাজার থানা বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো। সেখানে ঢাকা–৭ আসনভুক্ত পাঁচটি থানার নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা–কর্মী অংশ নেন।
জামায়াত প্রার্থীর সমালোচনায় বুলু
জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী বরকতউল্লা বুলু। তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হামিদুর রহমানকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় ঢাকা-৭ আসনে হামিদুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ব্যবসায়ী এনায়াত উল্লার নাম উল্লেখ না করেই তাঁর সমালোচনা করেন বুলু। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোনো বহিরাগতকে ভোট দেবেন না। যাঁরা আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ফুলেফেঁপে উঠেছেন, আড়ালে ছিলেন, এখন তাঁরা বলেন তাঁরা নাকি গোপনে জামায়াতের সদস্য ছিলেন! হালুয়া-রুটি সব খেলেন শেখ হাসিনার, এখন জামায়াত হয়ে গেলেন! এই মোনাফেকদের, গুপ্ত সংগঠনের লোকদের আপনারা বিশ্বাস করবেন না।’
বরকতউল্লা বুলু বলেন, আজকে বাংলাদেশে নির্বাচন হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে। একদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, আরেক দিকে একাত্তরের রাজাকার। কার পক্ষে জাতি দাঁড়াবে? এবারের ভোট হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ভোট। এবারের ভোট দেশকে রক্ষা করার ভোট। ধানের শীষকে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।
এই জনসভায় মঞ্চের সামনে নেতা-কর্মীদের একটি অংশ সড়কের ওপর বসে ছিলেন। পেছনে চেয়ারে বসেছিলেন আরেকটি অংশ। সভায় ‘১৭ বছর দিইনি ভোট, এবার দেব ধানে ভোট’, ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও’ প্রভৃতি বলে স্লোগান দেন নেতা–কর্মীরা। এই সভার কারণে ওই সড়ক দিয়ে চার ঘণ্টার বেশি সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বিএনপির যুববিষয়ক সহসম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রচার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খান, ঢাকা দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি জহিরউদ্দিন তুহিনসহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, জাসাসসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা হামিদুর রহমানের পক্ষে ভোট চেয়ে জনসভায় বক্তব্য দেন।