সংবিধান না মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি গায়ের জোরের শামিল: রিজভী
সংবিধান সংশোধনের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সনদের কিছু বিষয় সাধারণ আইন করে বাস্তবায়ন করতে হবে, আবার কিছু বিষয় বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। সংবিধানের ধারাবাহিকতা ও আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে যা বাস্তবায়নের দাবি, তা গায়ের জোরের শামিল।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মান্ডায় হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এক স্মরণসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কথা বলেন। অবিভক্ত সবুজবাগ থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত শামসুল হুদার স্মরণে মুগদা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন এ সভার আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপিসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে। এসব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে আসতে হবে। কারও কথা না শুনে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। সংসদে আলোচনা ও সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
দেশের জ্বালানিসংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি চলছে। বৈশ্বিক এই সংকটের প্রভাব দেশের ওপর পড়ছে। অথচ বিরোধী দল এর দায় সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিকল্প উৎস হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি ও গ্যাস এনে দেশের কলকারখানা সচল রাখা এবং সাধারণ মানুষের রান্নার ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করছেন। রাজধানীর লোডশেডিং পরিস্থিতিও ইতিমধ্যে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। প্রান্তিক ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে, যা দারিদ্র্যের হার অন্তত ৫ শতাংশ কমাবে বলে তিনি আশা জানান। দেশীয় অর্থনীতির দৈন্য দূর করা এবং টয়োটার মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের কারখানা বাংলাদেশে স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে জাপান ও চীনে কূটনৈতিক সফর ও চুক্তি সফল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রয়াত শামসুল হুদার স্মৃতিচারণা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তিনি প্রায় ৪০ বছরের পরীক্ষিত ও বিনয়ী রাজনীতিক ছিলেন। কারও সঙ্গে কটুকথা বলতেন না, সংঘর্ষেও জড়াতেন না। অভিভাবকের মতো সবাইকে স্নেহ করতেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন মিথ্যাচার ও কলঙ্কলেপন বাড়ছে, তখন তাঁর মতো অভিভাবকতুল্য নীতি-আদর্শে অটল নেতার অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
স্মরণসভায় প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক ছাত্রদল নেতা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লিটন মাহমুদের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ ইউনুস মৃধা।
এ ছাড়া আরও বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম হোসেন, সদস্য শেখ মোহাম্মদ আলী, মুগদা থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন, মাসুদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা।