হার–জিত যা–ই হোক, বিজয়ী হবেন ১৮ হাজারের প্রতিনিধি: জবি শিক্ষক সমিতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, জকসু নির্বাচনে হার–জিত থাকবেই। তবে যিনি জয়ী হবেন, তিনি হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতিনিধি।
আজ মঙ্গলবার জকসু নির্বাচন উপলক্ষে দুপুর সাড়ে ১২টায় শিক্ষক সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইমরানুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও সাময়িক জটিলতার বিষয় তুলে ধরে শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, সকালে ভোট গ্রহণ শুরুর পর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, পরিবেশ সামগ্রিকভাবে উৎসবমুখর। তবে শহীদ সাজিদ ভবনের ৩১২, ৩১৩ ও ৩১৭ নম্বর কেন্দ্রে এজেন্টদের উপস্থিতির কারণে ভোট গ্রহণে সামান্য বিলম্ব হয়েছিল, যা পরে সমাধান করা হয়। এ ছাড়া এজেন্টরা কেন্দ্রে ভোটার তালিকা নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং সব প্যানেলের এজেন্টদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
কালি ও ভোট জালিয়াতি–সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রসঙ্গে মো. রইছ উদ্দীন বলেন, আজকের নির্বাচনে ব্যবহৃত কালি নিয়ে অভিযোগ এসেছে যে এটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা সম্ভব। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটারের স্বাক্ষর নিয়ে ভোট কাস্ট করা হচ্ছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুপস্থিত ভোটারদের কার্ড ব্যবহার করে কেউ যেন ভুয়া ভোট দিতে না পারেন, সে জন্য ভোটার কার্ড ও পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে বলা হয়েছে।
ভোটার তালিকার পাশে প্রার্থীর ছবি–সংবলিত স্লিপ বা কাগজ নিয়ে যাওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, ভোটার কাকে ভোট দেবেন, তা জানার এখতিয়ার তাঁর আছে। তবে এটি নিয়ে কোনো পক্ষ যেন বিতর্ক সৃষ্টি না করে।
শেষে অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন বলেন, নির্বাচনে চারটি প্যানেল ও অনেক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনে হার-জিত থাকবেই। তবে যিনি জয়ী হবেন, তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য হবেন। এই নির্বাচন একটি বিশাল সমুদ্রের মতো। যেখানে বিভিন্ন স্রোত (প্যানেল ও প্রার্থী) থাকলেও সবার লক্ষ্য একটিই—বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সঠিক নেতৃত্ব খুঁজে বের করা। এ সমুদ্রের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখা ও সঠিক নাবিক (প্রতিনিধি) নির্বাচন করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।