সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে ‘১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন সাধনে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ শীর্ষক এ সভা শুরু হয়। মেয়র আতিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আর স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লা সভাপতিত্ব করেন।

ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, মাঠের পেছনে বিদ্যালয় থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসেনি। সভার জন্য স্কুল বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা মেয়রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে শামিয়ানা টানিয়ে প্যান্ডেল করা হয়। এতে বিদ্যালয় ভবনটি সভামঞ্চের পেছনে ঢাকা পড়ে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চলে সভা। এ সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ওই বিদ্যালয়ের দুই পাশে থাকা খাদেমুল কোরআন মডেল মাদ্রাসা ও মণিপুর ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সভায় সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা চলাকালে নেতা-কর্মীদের কারণে বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সাংবাদিকদের জানান, ক্লাস হবে না—এ বিষয়ে আগে থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি। সকালে স্কুলে এলে বলা হয় ক্লাস হবে না। কারণ, স্কুলমাঠে মেয়রের অনুষ্ঠান হবে।

আফফান মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলে, সকালে ক্লাস ছিল। তাই আটটার সময় শ্রেণিকক্ষে বসে তারা অপেক্ষা করে। কিছুক্ষণ পর জানানো হয়, আজ ক্লাস হবে না। সবাইকে বাসায় চলে যেতে বলা হয়।

বিদ্যালয়টির মাঠে প্যান্ডেল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের জন্য সাউন্ড বক্স ব্যবহার করা হয়। এতে উচ্চ শব্দে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা অসম্ভব হয়ে ওঠে। পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় বিদ্যালয় বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বাড়িতে ফিরে যেতে বলা হয়।

বিদ্যালয়ের নিরাপত্তাপ্রহরী আবুল কালাম সাংবাদিকদের বলেন, সকালে অনেক ছাত্রছাত্রী ক্লাস করতে স্কুলে এসেছিল। তাদের ক্লাস না করিয়ে বাসায় ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে মাঠে সভার সাউন্ড সিস্টেমের শব্দে পাঠদান সম্ভব নয়। তাই যাদের সকালে ক্লাস ছিল, তাদের আধা ঘণ্টা পড়িয়ে ছুটি দেওয়া হয়েছে ও অন্য শিক্ষার্থীদের সকালে ফোন করে আসতে মানা করা হয়েছে বলে বিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম সাংবাদিকদের জানান।

মো. শাহ আলম বলেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাঠে অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয় কিংবা পাঠদান বন্ধ রাখতে বলেননি। পরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মতো পরিবেশ না থাকায় সকালে এসে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

এ বিষয়ে জানতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসমাইল মোল্লার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। একইভাবে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল মেয়র আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনিও ফোন ধরেননি। খুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

তবে ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, মাঠের পেছনে বিদ্যালয় থাকার বিষয়টি তাঁদের নজরে আসেনি। সভার জন্য স্কুল বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা মেয়রের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।