রোববার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে জি এম সিরাজ এসব কথা বলেন।

আইএমএফ থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার বিরোধিতা করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, এটা অর্থনীতির জন্য আরও ভয়ংকর। তিনি বলেন, গ্যাস–সংকটের কারণে শিল্পে সংকট তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে। করণীয় ঠিক করতে সবাইকে জাতীয়ভাবে বসা উচিত।

অনির্ধারিত এ আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেন, দেশকে সংঘাত ও সংকট থেকে রক্ষা করতে হবে। মানুষ সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে দায়িত্বশীল বক্তব্য পেতে চায়। তিনি বলেন, বিএনপির সমাবেশে সরকারের পক্ষ থেকে নানা কৌশলে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

খেলা হবে নিয়ে পাল্টাপাল্টি

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ইদানীং রাজনীতিতে নতুন শব্দ যোগ হয়েছে। সবাই বলছে খেলা হবে। কিসের খেলা হবে? কোথায় খেলা হবে? কার সঙ্গে খেলা হবে? জনগণ কোথায় খেলা দেখতে চায়?

খেলা হবে—এই স্লোগানকে হালকা বক্তব্য উল্লেখ করে ফিরোজ রশীদ বলেন, রাজনীতিতে এত হালকা কথা বলে, হালকাভাবে রাজনীতিকে নেওয়া উচিত নয়। মানুষ বাঁচতে চায়। এই খেলা দেখতে চায় না।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, রপ্তানি কমায় দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এটাকে মোকাবিলা করার জন্য খেলা বাদ দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে ঐকমত্য হয়ে বিপদ মোকাবিলা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘খেলা হোক। তবে আগে জনগণকে বাঁচান।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে মূল স্লোগান ছিল ‘খেলা হবে’। দেশের মানুষও এটি পছন্দ করছে। এটা কোনো হালকা বিষয় নয়।

ফিরোজ রশীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনার ভালো লাগে না আপনি বলবেন না। আমি বলব—এটা একটা পলিটিক্যাল স্লোগান।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নাকি ১০ ডিসেম্বর রাস্তায় বের হবে, খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিজয় মিছিল করবে। তার মানে লাঠিসোঁটা নিয়ে নামবে। এর বিরুদ্ধে খেলা হবে। বাড়াবাড়ি করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শেখ সেলিম বলেন, ক্যান্টনমেন্টে যাদের জন্ম, তাদের মুখে শুনতে হয় গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা।