১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এখনো আসল ঘোষণা দিইনি। আসল ঘোষণা হবে ১০ তারিখে। সেই দিন থেকে শুরু হবে এক দফার আন্দোলন। এখানে কোনো আপস নাই। আপনাদের যেতে হবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে চলে যান।’

মামলা দিয়ে কি আটকানো গেছে? যত মামলা দেবে, তত আরও শক্তিশালী হবে, মানুষ তত রুখে দাঁড়াবে। বাধা দিলে বাধবে লড়াই। কারণ, এটা আমাদের জীবন-মরণ সমস্যা। জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপি সমাবেশ করতে চায় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তারা এ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সাতটি বিভাগীয় সমাবেশ করেছে। প্রতিটি সমাবেশেই সরকার বাধা দিয়েছে। তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ‘আরে কত ভীরু, কত কাপুরুষ, গাড়ি বন্ধ করে দেয়। ট্রাক, বাস, লেগুনা বন্ধ করে দেয়। তাতে কি সমাবেশ বন্ধ করতে পারছে? বরং মানুষ আরও বাড়ছে। তিন ঘণ্টার সমাবেশকে তোমরা তিন দিন বাড়াইছ।’

সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম নতুন করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘গায়েবি’ মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এরা ভীরু, এত কাপুরুষ। আবার মিথ্যা মামলা, গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করেছে। রাজশাহীতে সমাবেশ হবে। সাড়ে ৭০০ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সিলেটে দিয়েছে, কুমিল্লায়ও হবে মিথ্যা মামলা। ঢাকায় হয়নি এখনো, হবে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘মামলা দিয়ে কি আটকানো গেছে? যত মামলা দেবে, তত আরও শক্তিশালী হবে, মানুষ তত রুখে দাঁড়াবে। বাধা দিলে বাধবে লড়াই। কারণ, এটা আমাদের জীবন-মরণ সমস্যা। জাতির অস্তিত্বের প্রশ্ন।’

বাঞ্ছারামপুরে ছাত্রদল নেতা রফিকুল ইসলাম হত্যার উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘চলমান আন্দোলনে আমাদের সাতজন তরুণ–যুবকের প্রাণ নিয়েছে।

এরা যখন কথা বলে, মনে হয় ধর্মপুত্র। কিন্তু এরা সবচেয়ে নির্মম। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বাঞ্ছারামপুরের ঘটনা সাজানো। এরা কত অমানুষ হতে পারে, কত নির্মম, অমানবিক হতে পারে যে দুঃখ পর্যন্ত প্রকাশ করে না। বলে সাজানো ঘটনা, আরে সাজানো নায়ক তো তোমরা হয়েই আছ। জোর করে, বিনা ভোটে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে ক্ষমতায় বসে আছ।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান যদি সত্য হয়, তোমরা (আওয়ামী লীগ) সত্য নও। কারণ, এখানে (সংবিধান) পরিষ্কার করে বলা আছে, বাংলাদেশের সরকারকে নির্বাচিত হতে হবে।’

সমাবেশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তাঁদের কাছে একটা প্রশ্ন রাখতে চাই, তাঁরা এই দেশের সন্তান। এই দেশের সাধারণ মানুষ তাঁদের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে দেশের সব রাজ কর্মচারীদের বেতন দেয়। আপনাদের ঘাড়ে বন্দুকটা রেখে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ আজকে যে অন্যায়, বেআইনি শাসন চালিয়ে যাচ্ছে, তার দায় কিন্তু এসে পড়ে আপনাদের ওপর।’

মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে র‍্যাবের কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা আমরা চাই না। অন্য রাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেওয়া আমাদের জন্য লজ্জাকর, অপমানের। কিন্তু এই লজ্জা, অপমানের জন্য দায়ী কে? শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সরকার। আমরা চাই না, অন্য কোনো বাহিনী আবার সেই নিষেধাজ্ঞায় পড়ুক।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, মীর সরাফত আলী, ইশরাক হোসেন, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, উত্তরের সদস্যসচিব আমিনুল হক, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ প্রমুখ।