হাসিনার আমলে গণতান্ত্রিক পরিসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল: রুহুল কবির রিজভী

‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’-এর ফাইনাল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে, ১০ অক্টোবর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শেখ হাসিনার আমলে গণতান্ত্রিক পরিসর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ে কথা বলা, স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করাও কঠিন ছিল।

আজ শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের মুজাফ্‌ফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট ২০২৫’–এর ফাইনাল পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার আমলের ক্যাম্পাস ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গণতান্ত্রিক পরিসর পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গণতান্ত্রিক সুযোগ কোথাও অবশিষ্ট রাখা হয়নি। যেকোনো স্বাধীন মতপ্রকাশ বা স্বাভাবিক রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে স্বাধীনভাবে কোনো মতামত প্রকাশ করার পথও রুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে একনায়কতন্ত্র বা সামরিক শাসন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কিছুটা স্বায়ত্তশাসন ও কথা বলার অধিকার বজায় থাকে। কিন্তু হাসিনার আমলে সেই সুযোগটুকুও পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কঠিন দুঃশাসনের মধ্যেও দেশের তরুণ–যুবকেরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কাজ করে গেছে। বর্তমান স্বাধীন পরিবেশে তরুণদের মেধা, মনন ও মুক্তচিন্তার চর্চা আরও বাড়িয়ে দিতে হবে।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের সৃজনশীল চিন্তা, সাহসী প্রশ্ন এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতার ওপর। ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুরুত্ব বাড়বে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে গবেষণা, উদ্ভাবন ও বাস্তব সমস্যার সমাধানমুখী হতে হবে।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরহাদ হালিম বলেন, ফাউন্ডেশন ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) আবদুস সালাম, সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।