অভাবগ্রস্ত ও কষ্টপীড়িত লোকজনকে বিএনপি উসকানি দিচ্ছে, এমন দাবি করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি ভোট নেবে কী বলে? আমাদের যত কাজ, তত প্রচার নেই। ফেসবুকে আমাদের উপস্থিতিটা একেবারেই দুর্বল।’

আওয়ামী লীগের ক্ষমতার মোহ নেই দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনগণ চাইলে আছি, না হলে নেই, এটা নেত্রী বলে দিয়েছেন। ক্ষমতা আমাদের জন্য জনসেবার মহান ব্রত, ক্ষমতা কোনো মোহ নয়।’

ক্ষমতা বিএনপির মোহ, মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তাঁদের মোহ, যাঁরা হাওয়া ভবন টেকব্যাক করতে চান। হারানো হাওয়া ভবন ফিরে পেতে তাঁরা টেকব্যাক আন্দোলন করছেন।

বিএনপিকে আওয়ামী লীগের দুর্বল করা লাগবে না, এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা যেভাবে চলছে, নেতিবাচক রাজনীতিতে নিজেরাই দুর্বল হয়ে যাবে। নিজেরাই নিজেদের দুর্বল করার জন্য যথেষ্ট। আওয়ামী লীগের কোনো দরকার নেই। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টি কেন করব? আমাদের সামনে দৃশ্যমান কাজ আছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন, আমি দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা বিএনপির সঙ্গে পাল্টাপাল্টিতে নেই। তারা সম্মেলন করে না, আমরা আমাদের নিয়মিত সম্মেলনের কাজ করছি।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক কবে হয়েছে, জানতে চান কাদের। এ সময় দলটির কেন্দ্রীয় কমিটিকে জাম্বো জেট বলে উল্লেখ করেন তিনি বলেন, যারা দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করে না, তারা দেশের মধ্যে কীভাবে গণতন্ত্রের চর্চা করবে?

বিএনপির জনপ্রিয়তা দেখে সরকার ঈর্ষান্বিত, দলটির নেতাদের এমন দাবির জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জনপ্রিয়তাটা কীভাবে বুঝব? নির্বাচনে আসেন। সেখানে প্রমাণ হবে কারা জনপ্রিয়।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নামে কয়েকজন বসে সিদ্ধান্ত নেন বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, তাঁদের দল ও সংগঠন করার দরকার নেই। তাঁদের কিছু লোক দরকার বিদেশিদের নালিশ করার জন্য। বিএনপির নেতারা সকালে ঘুম থেকে উঠেই ব্রেকফাস্ট পার্টিতে যান এবং রাতে ডিনার করেন। তাঁরা নালিশ করেন দেশের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় অপপ্রচার করা হয় জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দলের নেতাদের বলেন, ‘এগুলোর জবাব আপনারা দেবেন না?’

প্রচার উপকমিটির সদস্যদের ফেসবুকে সরব উপস্থিতি দেখেন না বলে জানান তিনি। বলেন, কাউন্টার করবেন কে? এটা কাউন্টার করতে হবে। মিথ্যাচার ও বিষোদ্‌গারের জবাব দিতে হবে।

দলীয় নেতাদের টেলিভিশন টকশোর বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘টকশোতে অনেকেই যান। মাঝেমধ্যে সময় পেলে শুনি। কাউন্টারটা যথাযথ না হলে কাউন্টার করে লাভ নেই। কেউ কেউ আছেন, চৌকস কাউকে আমাদের প্রতিপক্ষ থেকে বেছে নেন, আমাদের এখান থেকে দুর্বল একজনকে দাঁড় করান। এটাও কিন্তু চতুরতার সঙ্গে করা হয়।’

সম্মেলনের দিন কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শুধু দুপুরবেলার খাবার সরবরাহ করা হবে বলে জানান কাদের। সম্মেলন উপলক্ষে দাওয়াত কার্ড যাতে সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা হয়, সেই নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সম্মেলনে কাউন্সিলরদের দ্বিগুণ হচ্ছেন প্রতিনিধি। ৮ হাজারের মতো কাউন্সিলর, প্রতিনিধি হবেন ১৬ হাজার।

মেট্রোরেল ডিসেম্বরের শেষে উদ্বোধন করা হবে বলে জানান সড়কমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে। বঙ্গবন্ধু টানেল জানুয়ারিতে উদ্বোধন করা হবে।

ছাত্রলীগের মেসেজে কাজ করা যায় না

ছাত্রলীগের নেতাদের মেসেজে বিরক্ত বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘রাতে মোবাইল সাইলেন্ট থাকে। সকালে এত মেসেজ পড়তে পড়তে শেষ, সময় ফুরিয়ে যায়। দয়া করে আমাকে মেসেজ দেবেন না।’

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তাদের জন্য আমাদের নেত্রী একটি সুসজ্জিত কার্যালয় তৈরি করে দিয়েছেন। সেটা হলো আমাদের ২৩ নম্বরে (বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ)। তারা এখানে ঘুরে কেন? ছাত্রলীগ অফিসে গেলে ওই অফিসে যাবে। তদবির করলে ওই অফিসে করবে। এখানে তো তাদের আসার কথা নয়।’

কাউকে অতি উৎসাহী ভক্ত সাজতে নিষেধ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের নেতা-কর্মীদের মনের খবর আমাদের সভাপতি শেখ হাসিনার চেয়ে কেউ বেশি জানেন না। তিনি কাউন্সিলরদের মনের খবর ও জীবনের খবর, এমনকি তাঁরা কীভাবে চলছেন, কে অসুস্থ, কার আর্থিক সচ্ছলতা নেই, সব খবর রাখেন। তাই এ দলের নেতৃত্ব নির্বাচনে সভাপতি শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘একজন কাউন্সিলরও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যিনি আমাদের নেত্রীকে পুনর্বার চাইবেন না। তাঁর জন্য আমরা আজ এ পর্যন্ত এসেছি।’

নিজে কখনোই প্রার্থিতার মধ্যে ছিলেন না দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি প্রার্থিতার মধ্যে কখনো ছিলাম না। তাই আমার অতি উৎসাহী ভক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। আমি ভালো আছি, নেত্রী যে দায়িত্ব দেবেন, যেখানে রাখবেন, আমি সেটাই করব।’

আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে সাজসজ্জা ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা নিষেধ করেছেন বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তারপরও মফস্‌সলে গিয়ে...হায় রে বিলবোর্ড! যেখানেই যাই বিলবোর্ড। সামনে দেখি এক রকম, বিলবোর্ডে দেখি আরেক রকম। চিনিই না। আমার ছবিও আমার চিনতে কষ্ট হয়। কোথা থেকে এলাম? এখানে কী দেখলাম। বিলবোর্ডের ছড়াছড়ি যেভাবে হচ্ছে, এসব আমরা করব না।’

উপকমিটির সদস্যদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি যদি অন্য কোনো শাখার কর্মকর্তার পদে থাকেন, তাহলে উপকমিটিতে থাকতে পারবেন না। জেলা, উপজেলা, থানা কমিটির কর্মকর্তা হন, তাহলেও সম্ভব নয়। কে কোথায় আছেন, সেটা খোঁজ নিলে বের হয়ে আসবে।’

জেলার সহযোগী সংগঠনের কর্মকর্তা উপকমিটিতে থাকতে পারবেন না বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মী বিনা পরিচয়ে, বিনা পদে এখানে ঘুরে বেড়ান। তাঁদের আমরা কোনো পদ দিতে পারি না। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ একাধিক পদে রয়েছেন।’

প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির আহ্বায়ক সাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।