স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার পদে কারা, গোপন রাখল বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন, তা শেষ সময় পর্যন্ত গোপন রেখেছে বিএনপি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সংসদের অধিবেশন বসছে। শেষ মুহূর্তে এসে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দুজনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে সাতবারের সংসদ সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঈন খান এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো দায়িত্ব পাননি। এর বাইরে গতকাল হঠাৎ সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও নানাভাবে আলোচনায় আসে।
ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। সেটা বিরোধী দল নেবে কি না, তা গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট করেনি তারা। ফলে ডেপুটি স্পিকারের বিষয়েও বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার পদ না নিলে এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে কয়েকটি নাম আলোচনায় আছে।
স্পিকার পদে আবদুল মঈন খান ও হাফিজউদ্দিন আহমদের নাম নিয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। দুজনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী। এর মধ্যে সাতবারের সংসদ সদস্য হাফিজউদ্দিন আহমদ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঈন খান এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো দায়িত্ব পাননি। এর বাইরে গতকাল হঠাৎ সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও নানাভাবে আলোচনায় আসে।
যদিও গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সভা শেষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবাদ সম্মেলনে সংসদের নতুন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম (মনি) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা সংসদ নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছি। সিদ্ধান্ত তিনি দেবেন। আগামীকাল আমরা জানতে পারব।’
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে কিছুদিন ধরে বেশ কয়েকজনের জনের নাম আলোচনায় এসেছে। এর আগে সংসদের চিফ হুইপসহ হুইপ নিয়োগের ক্ষেত্রেও বেশ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়।
ডেপুটি স্পিকারের বিষয়েও বিএনপি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে। বিরোধী দল ডেপুটি স্পিকার পদ না নিলে এই পদে কে আসছেন, তা নিয়ে কয়েকটি নাম আলোচনায় আছে।
সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, সেটিও প্রকাশ করেনি বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এতে সভাপতিত্ব করতে পারেন—এমন আলোচনা রয়েছে।
অবশ্য গতকাল চিফ হুইপ বলেছেন, আজ বৃহস্পতিবার স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত শেষে সংসদ নেতা অধিবেশনের এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন। কোনো একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন। তারপর ওই সদস্য (যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে) সভাপতিত্ব করবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত উদারতা দেখিয়ে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকার পদ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে তাঁরা কোনো ‘পজিটিভ রেসপন্স’ পাননি। পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এমন কথা বলেন, যাতে দল বিব্রত হয়। ক্ষমতায় কে কত দিন থাকবে, তা জনগণ নির্ধারণ করবে। মানুষ এ ধরনের কথা পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না।
মন্ত্রী-এমপিদের সংযত থাকার পরামর্শ
গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় দলের চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের (এমপি) কথাবার্তায় সংযত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির চেয়ারম্যানের একজন উপদেষ্টার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা এমন কথা বলেন, যাতে দল বিব্রত হয়। ক্ষমতায় কে কত দিন থাকবে, তা জনগণ নির্ধারণ করবে। মানুষ এ ধরনের কথা পছন্দ করে না, গ্রহণ করে না।
প্রসঙ্গত, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক গত সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্তব্য করেন, শুধু ২০৩১ সাল নয়; ২০৪২ সালেও তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী এবং দলের সংসদ সদস্যদের চলনে-বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য প্রথম আলোকে জানান, গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে যাঁর যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন—এ বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নেওয়া জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়
সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। ডেঙ্গুর মৌসুম সামনে রেখে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সবাইকে সতর্ক করেন তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে।
সভায় মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। বিশেষ করে তরুণদের সকাল নয়টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে। অফিসে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলারও পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলেন বলে সভায় উল্লেখ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সংসদ অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) বিরতি হবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। সভা শেষ হয় বেলা ১টায়। সভায় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বসেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল সংসদ অধিবেশন শুরুর পর দুই দিন (শুক্র ও শনিবার) বিরতি হবে। এরপর ১৫ মার্চ আবার সংসদ বসবে। ওই দিন মুলতবি হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের পর ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন শুরু হবে।