আজকের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে নির্বাচনকালীন সরকারের ভূমিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া এখনকার বাস্তবতায় দলীয় সরকারের অধীন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সম্ভাবনা নেই। এ জন্য নির্বাচনকালীন সরকার যেন কোনো প্রকারে নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয় নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক রক্ষাকবচ থাকাও অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে একটি স্বাধীন-নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনকালীন সরকার এবং নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া দরকার। এর পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো জরুরি।

নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান যুক্ত করা, নির্বাচনী বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়াসহ নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন বাতিলসহ আইন লঙ্ঘনকারীদের আটক ও কারাদণ্ড প্রদানের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়।
নির্বাচনকালীন তদারকি সরকারের ও ওই সরকারের কাজের বিষয় সংবিধানে সুনির্দিষ্ট করার দাবি জানানো হয়। নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ্ আলম, সহসাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য শামসুজ্জামান সেলিম, এ এন রাশেদা, শাহীন রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ, লুনা নূর, মানবেন্দ্র দেব, লাকী আক্তার প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচনী আচরণবিধিতে যা রয়েছে, তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে তার জন্য অঙ্গীকার ও সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা প্রদানের জন্য কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে সর্বদলীয় কমিটি গঠন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নারীর আসনসংখ্যা বৃদ্ধি ও সরাসরি ভোটের ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানানো হয়। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের মনোনয়নপ্রার্থী হতে হলে, তাঁকে কমপক্ষে তিন বছর দলের সদস্যপদ নিয়ে এবং জনগণকে অবহিত রেখে দলের কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে হবে। স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধীতাকারী বা যুদ্ধাপরাধী হলে, নিজে অথবা পরিবারের কেউ ঋণখেলাপি কিংবা ঋণখেলাপির জামিনদার হলে, কালোটাকার মালিক বলে বিবেচিত হলে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ অথবা চাকরিচ্যুতির বছর তিন বছর অতিক্রম না করলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রেও এই বিধি প্রযোজ্য হবে।

ইভিএমে ভোট ছিনতাই হতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়।
এখন নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিনিময় চলছে। আজ বক্তারা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই মতবিনিময় “নিছক অন্যদের কথা শোনা ও নিজেদের কথা গেলানোর চেষ্টা” ছাড়া কিছুই করবে না। তাই এই মতবিনিময়ে অংশগ্রহণের প্রয়োজন আমরা মনে করিনি।’

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন