পোস্টাল ব্যালট নিয়ে ব্যত্যয় হলে ছাড় নয়: ইসি
প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট নিয়ে যে কয়টি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেখানে এখনো কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামান্যতম ব্যত্যয় হলে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র লক দেওয়া, ফৌজদারি অভিযোগ আনা ও প্রয়োজনে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, আজ তাঁরা সব দূতাবাসের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে কথা বলেছেন। বাহরাইন, ওমান ও কুয়েতে পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ব্যত্যয় হয়েছে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট হাতে পেয়েছেন। এখন থেকে বাহরাইনে সিপিআর (বাহরাইনের পরিচয়পত্র) না দেখানো পর্যন্ত কাউকে পোস্টাল ব্যালট হস্তান্তর করবে না বাহরাইন পোস্ট। ওমানেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট দেখে পোস্টাল ব্যালট হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়া প্রসঙ্গে আবুল ফজল বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় অনেকে একই ঠিকানায় থাকেন। অনেকে স্বল্প পরিসরে থাকেন। তাঁদের নিজস্ব ঠিকানা নেই, তাঁরা কোনো পোস্টবক্স বা নিকটস্থ দোকানের ঠিকানা ব্যবহার করেছেন। তিনি জানান, দুজন ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন এ রকম ভোটার আছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন। পাঁচজন পর্যন্ত একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন ৯৫ হাজার ৮১৬ জন। ১০ জন একই ঠিকানায় এই সংখ্যা ৫৯ হাজার ২৭৬ জন। ৫০ থেকে ১০০ জনের বেশি একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন এ রকম ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ৮৯১।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রাপকের ঠিকানা ভুল থাকায় গতকাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৫২১ জনের ব্যালট দেশে ফেরত এসেছে। এটি বেশি হয়েছে মালয়েশিয়ায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্ভব হলে দেশে যে পোস্টাল ব্যালট দেওয়া হবে, সেখানে প্রতীক ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম (আসল ব্যালট) থাকবে। এ বিষয়ে আগামীকাল শুক্রবার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।