গতকাল আওয়ামী লীগের যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি যদি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেয়, তাতেও বাধা দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ‘বাংলামোটরে যে বাধা দেওয়া, সেটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছি। আসুক না হেঁটে হেঁটে যত দূর আসতে পারে। কোনো আপত্তি নেই। আমি বসাব, চা খাওয়াব। কথা বলতে চাইলে শুনব।’
এই বক্তব্যের উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘তার আগে বলে দেন যে কেয়ারটেকার সিস্টেম মেনে নিচ্ছি, সেটা বলে দেন। তারপর চা-টা খাওয়ালে অসুবিধা নেই। আমি গতকালও বলেছি, এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক পার্লামেন্ট, জবাবদিহিমূলক সরকার। এই সরকারের তো কোনো জবাবদিহি নেই।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তাই এসব চা-টা খাওয়ার কথা বলে লাভ নেই। এবার একটাই কথা, পদত্যাগ করুন, পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে সবার অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন, যেন সত্যিকার অর্থে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।’

কোনো ক্ষেত্রেই সরকারের কোনো ধরনের জবাবদিহি না থাকার কারণে বিভিন্ন খাতে সংকট দেখা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, এক বিদ্যুতেই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টে ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার ছাড়া প্ল্যান্ট হবে, এ বিষয়ে কাউকে প্রশ্ন করা যাবেন না, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। যেখানে ইনডেমনিটি দেওয়া হয়, সেখানে আপনি কী করে আশা করতে পারেন দুর্নীতি হবে না?

‘রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়’ খনার বচনটি তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন এই বচন এতই যথার্থ যে শাসকদের দুর্নীতি, লুটপাট, তাদের অশিক্ষা, ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে দেশের মানুষের জীবন-জীবিকা দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। অথচ তাদের মুখের ভাষা কী। তারা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানিয়ে দিচ্ছে, মালয়েশিয়া বানিয়ে দিচ্ছে। কানাডা, সান ফ্রান্সিসকোও বানিয়ে দিচ্ছে।
শ্লেষের সুরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে নিঃসন্দেহে কোনো কোনো জায়গা আছে, আমি নাম উল্লেখ করতে চাই না। যেখানে গেলে আপনার মনে হবে আসলেও বোধ হয় তা-ই।’

এ সময় দর্শকসারি থেকে অনেকে হেসে দিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আছে আছে কিছু কিছু জায়গা আছে, আবার নতুন কিছু জায়গা তৈরিও হচ্ছে এখন, পূর্বাঞ্চলের দিকে। অথচ সাধারণ মানুষের আজ কী অবস্থা? ৪০ থেকে ৪২ হয়ে গেছে দারিদ্র্যের হার। কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সুনামগঞ্জে অনেক পরিবার আছে, যারা দুই বেলা ঠিকমতো খেতে পারছে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলছি এবং গোটা দেশে মানুষকে আহ্বান করেছি, আসুন এই ভয়াবহ দুর্বৃত্তদের থেকে মুক্তি পেতে হলে, এই ডাকাতদের হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। রাজপথের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করে একাত্তর সালের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করি।’

আলোচনা সভায় অ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আ ন ম আখতার হোসেন সভাপতিত্ব করেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন