তাপস অভিযোগ করে বলেন, ‘২০০১–২০০৬ সালে (বিএনপির) শাসনামলে দেড় শ ট্রাঙ্কে করে সৌদি আরবে টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, দুর্নীতির দায়ে বাংলাদেশ পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি, মানুষকে ধোঁকা দিয়েছিলেন, খাম্বা দিয়েছিলেন। কারণ, হাওয়া ভবন আর খোয়াব ভবনে সব অর্থ লুটপাট করে গিলে খেয়েছেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। এটা দিয়ে এখনকার সময়ে এক মাসের আমদানি ব্যয়ও মেটানো সম্ভব নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনা সঞ্চয় করে করে সেই রিজার্ভকে ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেন। সেই রিজার্ভের কারণেই বিশ্বব্যাপী চরম সংকট ও মন্দা, করোনা, যুদ্ধ—এসবের মধ্যেও আজকে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে এগিয়ে চলেছে৷ বলে রিজার্ভের টাকা কোথায় গেল? পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে এ অর্থ খরচ হয়েছে৷ বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে কোটি কোটি মানুষকে করোনার টিকা বিনা মূল্যে দিয়ে বাঙালি জাতিকে বাঁচিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এসব চোখে দেখেন না?’

করোনা, যুদ্ধ (রাশিয়া-ইউক্রেন) এবং অর্থনৈতিক মন্দা যদি না হতো, তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি পৃথিবীর কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারত না বলে মন্তব্য করেন মেয়র তাপস। তিনি বলেন, এ মন্দার মধ্যেও সারা বিশ্বে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। বিএনপির আমলে ১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হতো। (আওয়ামী লীগের আমলে) জনগণ তো লোডশেডিংয়ের কথা ভুলেই গিয়েছিল। যখন সারা বিশ্বে সংকট, তখন জনগণ দুই ঘণ্টার লোডশেডিং অবশ্যই সহ্য করবে। কারণ, মন্দা থেকে উত্তরণের পর শতভাগ বিদ্যুতায়ন একমাত্র শেখ হাসিনাই দিতে পারবেন।

বিএনপির উদ্দেশে ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘অঙ্ক শিখুন, অর্থনীতি বুঝুন— তারপর ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াব দেখুন। আমতা–আমতা দুই-তিনটা জনসভা করলেই সরকারে যাওয়া যাবে না। বাস পোড়ানো, পুড়িয়ে মানুষ মারার জন্য বিএনপির প্রতি ঘৃণা থেকে বাসের মালিকেরা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ বলা হচ্ছে, তাদের জনসভার ভয়ে সরকার বাস বন্ধ করেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন বলেই আপনারা জনসভা-সমাবেশ করতে পারেন। ২০০১-২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কেউ বাসায় ঘুমাতে পারেনি, জনসভা তো দূরের কথা, একটা ছোট সভাও করতে দেয়নি (বিএনপি)। বাংলাদেশকে আপনারা গিলে খেতে চেয়েছিলেন। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিলেন, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন, জাতিসংঘের কালোতালিকাভুক্ত করেছিলেন।’

বাংলার মাটিতে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না বলে জানান ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, ২০১৩-১৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপি-জামায়াত মানুষ হত্যা করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনে তারা ব্যর্থ হয়েছে। লজ্জায় তারা আর নির্বাচনে যায়নি।

বিএনপির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশে কোনো গণতন্ত্র ছিল না, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গ্রেনেড হামলা করে ২২ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করেছিল। ২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দীন আহমেদকে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে দেড় কোটি ভুয়া ভোটার বানিয়ে তারা নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে চেয়েছিল। তারপর ওয়ান-ইলেভেন হলো। এই হলো তাদের গণতন্ত্র আর নির্বাচনের নমুনা।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির৷ তিনি বলেন, বিএনপি হুংকার দিচ্ছে, ‘আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা শহরে গণসমাবেশ করবে এবং সেদিন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ চলবে। কত বোকা! তারা ভুলে গেছে যে ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, মুক্তিযোদ্ধাদের মাস।’

এর আগে বিকেলে সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী৷ শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং রমনা থানার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও শাহবাগ থানার সাধারণ সম্পাদক এম এ হামিদ খানের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নূরুল আমিন রুহুল, নেতা আবদুস সাত্তার, সংশ্লিষ্ট দুই থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও তিন ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা বক্তব্য দেন।

‘বিশৃঙ্খল এক আয়োজন’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের দুই থানা ও তিন ওয়ার্ডের এ সম্মেলনের আয়োজনে শৃঙ্খলা ছিল না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিশু-কিশোরকেও সম্মেলনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আয়োজনজুড়ে ছিল বিশৃঙ্খলা।

বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে জ্যেষ্ঠ নেতারা ক্ষুব্ধ হন। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে দফায় দফায় শৃঙ্খলা কমিটিকে অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়। বলা হয়, যাঁরা বিশৃঙ্খলা করবেন, তাঁরা নেতা হতে পারবেন না। শৃঙ্খলা কমিটিকে প্রয়োজনে পুলিশের সহযোগিতা নিতে বলা হয়। এসবেও বিশৃঙ্খলা না থামায় শৃঙ্খলা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় মঞ্চ থেকে। এরপরও মেয়র তাপস বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে আরেক দফা বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। পরে তাঁর অনুরোধে নেতা-কর্মীরা শান্ত হন।

দুই থানা ও তিন ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও কাউন্সিলররাও সভায় বক্তব্য দেন। তাঁরা দুই থানা ও তিন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্ন, দুঃসময়ের পরীক্ষিত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনার প্রত্যাশা জানান।