জিয়ার নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবের ফসল বাহাত্তরের সংবিধান, এটি আ.লীগের নয়: হাফিজ উদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদফাইল ছবি: প্রথম আলো

বাহাত্তরের সংবিধানকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র বিপ্লবের ফসল বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, এটি আওয়ামী লীগের সংবিধান নয়।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই সংবিধানে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল, যারা ক্ষমতায় এসেছে, সবাই সংশোধন করেছে। এখনো তো সংশোধন করার রাস্তা খোলা আছে। কেন মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে, আমার বোধগম্য নয়।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, অদ্ভুত এক ঘটনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটতে যাচ্ছে। সেটি হলো সারা পৃথিবীতে সংবিধান সংশোধন করেন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাংলাদেশে একদল অনির্বাচিত লোক, যাঁরা বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন, ১৭ বছরের সংগ্রামে কোনো অংশগ্রহণ নেই, জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে কোনো অংশগ্রহণ নেই; তাঁরা বাংলাদেশের সংবিধানকে ছুড়ে ফেলে দিতে চান।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমাদের কাছে যে জুলাই সনদ পাঠানো হয়েছে, সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই সনদে সই করা মাত্র বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তিত হয়ে যাবে, অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয়ে যাবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এর কোনো দ্বিতীয় উদাহরণ নেই।’ তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কেউ সংবিধান সংশোধন করার অধিকার রাখে না।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে সংস্কার কার্যক্রম চলছে। সেখানে প্রচারমাধ্যমে দেখানো হয়, ৩৫টি দল একদিকে আর একমাত্র বিএনপি একদিকে দাঁড়িয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিচ্ছে। এই যে ৩৫টি দল, তাদের সদস্যসংখ্যা কত, ভোটের সংখ্যা কত? আর বিএনপি চার–চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় গেছে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে। সুতরাং ওদের সঙ্গে তো বিএনপিকে মেলালে হবে না।’

পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি) পদ্ধতি নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি করা হয়েছে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘এসব কথা তো আগে শুনিনি। জুলাই-আগস্টের সেই গণবিপ্লবের সময় শুনিনি, আগেও কখনো শুনিনি। হঠাৎ করে এই দু-একটি রাজনৈতিক দল, যাদের একটি বর্তমান সরকারের সৃষ্ট, অপরটি যারা স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে; তারা এই পিআর পদ্ধতি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।’