গতকাল রোববার ভোলা সদর উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে গুলিতে আবদুর রহিম মাতবর নিহত হন। সংঘর্ষে আহত হন দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি। গতকাল বেলা ১১টার দিকে জেলা সদরের মহাজনপট্টিতে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবিতে বিএনপির ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে এ সংঘর্ষ হয়।

আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাফিজ উদ্দিন ভোলার গতকালের ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে এখানে উপস্থিত হয়েছি। আমার জেলা ভোলায় গতকাল বিনা উসকানিতে পুলিশ বাহিনী গুলি করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আবদুর রহিমকে হত্যা করেছে। সেখানে নেতাদের নির্দয়ভাবে লাঠিপেটা করেছে। অথচ তারা পার্টি অফিসে মিটিং করে একটি মিছিল নিচ্ছিল। মিছিল শুরুও হয়নি। এ সময় পুলিশ লাঠিপেটা ও গুলি করে। এটি সম্পূর্ণভাবে বিনা উসকানিতে নরহত্যার শামিল।’

হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘হামলা করা হয়েছে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার জন্য। গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় যেসব লড়াকু সৈনিকেরা রাজপথে নেমে আসছে, তাদের প্রতিহত করার জন্য, তাদের মনে সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য এ ধরনের একটি হত্যাকাণ্ডে উপনীত হয়েছে।’

সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ বলেন, ‘এভাবে গুলি করে সাধারণ মানুষকে বুটের তলায় বিদ্ধ করে কোনো সরকার বেশি দিন থাকতে পারে না। সাম্প্রতিককালে তার উদাহরণ আমরা।’ তিনি আরও বলেন, সরকার শুধু নিজেদের অর্থ-আয় করায় ব্যস্ত, গদি সুরক্ষিত রাখায় ব্যস্ত, কৃষক মরুক বা বাঁচুক, তাতে তাদের চিন্তা নেই। সে জন্য নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে তারা ক্ষমতায় থাকতে চায় বলে মন্তব্য করেন হাফিজ উদ্দিন।

এসব সংকট উত্তরণে একটি নিরপেক্ষ সরকারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন বলে মনে করেন হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ।

এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ বলেন, গতকালের কর্মসূচি তো রাজনৈতিক স্বার্থের ছিল না। কর্মসূচি ছিল মানুষের মৌলিক চাহিদা, যে চাহিদা পূরণে ব্যর্থ, এই সরকারকে সেই চাহিদা ফিরিয়ে দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেই কর্মসূচিতে পুলিশ কীভাবে গুলি করে?

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিন। সঞ্চালনা করেন জাতীয়তাবাদী গার্মেন্টস শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন