কূটনীতিকেরা অন্য দেশে এত কথা বলতে পারেন না: শিক্ষা উপমন্ত্রী
শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের দেশের এটা দুর্ভাগ্য যে কূটনীতিকেরা যেভাবে ইচ্ছা বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। এটা অন্য কোনো দেশের সম্ভব হয় না। আমাদের নিজেদের একটা দোষ আছে। আমরাই তাঁদের তোয়াজ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়াই। আমরা মনে করি, তাঁরা রাজনীতি নিয়ে একটা মন্তব্য করলে এটা একটা বিশাল ক্রেডিট।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে সম্প্রীতি বাংলাদেশ এ সভার আয়োজন করে।
সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, এভাবে অন্যের বিষয়ে কথা বলার, হস্তক্ষেপ করার মানসিকতা তৈরি করে দেওয়া—একটা সাম্রাজ্যবাদী আচরণ। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি দেশ সার্বভৌম। একটি দেশ আরেকটি দেশের বিষয়ে নাক গলাতে পারবে না। অন্য দেশে এসব কথা বললেও সেসব দেশের গণমাধ্যমে তা ছাপাবে না।
মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের দেশে কেউ মাইক পেলেই তা আর মাইক থাকে না। ক্যামেরা দেখলেই সবাই কথা বলেন। বাংলাদেশ তো একটি অতিথিপরায়ণ জাতি। বিদেশিদের বেশি খাওয়াতে খাওয়াতে এখন তাঁদের বেশি কথা বলার মানসিকতা তৈরি হয়েছে।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য একটা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। দেশীয় ষড়যন্ত্রকারীরা হচ্ছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মুসলিম লীগ হেরে যাওয়া অংশ, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাধ্যমে জিয়া যাদের প্রতিষ্ঠা করেছিল। এখন এদের বীজ থেকে গাছের রূপান্তর হয়েছে। এসব আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। এরা পবিত্র ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করে।
মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘রাসেল হত্যা বিচারের দাবিতে আওয়ামী লীগসহ অন্য প্রগতিশীল সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ বেড়ে উঠেছে। শেখ রাসেল আমাদের রাজনীতিতে একটি অদৃশ্য আদর্শ হয়ে উঠেছে।’
সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করে। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্যসচিব মামুন আল মাহতাব। বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়ুয়া, মাওলানা এহসান উদ্দিন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান প্রমুখ।