গণফোরামের অনুষ্ঠানে ড. কামাল
সন্ত্রাস–দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে পদক্ষেপ নেওয়াই হবে সরকারের প্রধান কাজ
গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান কাজ হবে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অর্থ পাচার রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। একই সঙ্গে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। এর ব্যত্যয় হলে দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা দুরূহ হয়ে পড়বে।
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে গণফোরাম আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ড. কামাল হোসেন। দলের প্রয়াত সভাপতি মোস্তফা মোহসীন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় ড. কামাল হোসেনের উপস্থিতিতে তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে কামাল হোসেন বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তাঁর আশা, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, বর্তমান বিএনপি সরকার সে বিষয়ে সজাগ থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রহীনতা, গুম, খুন, অর্থ পাচার, দুর্নীতি, একদলীয় নির্বাচন ও সর্বত্র দলীয়করণের কারণে রাষ্ট্রে কোনো জবাবদিহি ছিল না বলে উল্লেখ করেন গণফোরামের ইমেরিটাস সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে কাঙ্ক্ষিত জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়নি।’
প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি
স্মরণসভায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা জরুরি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক হতাশা আরও বাড়বে, তাই প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির ভিত্তিতে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধকে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে বলে স্মরণসভায় উল্লেখ করেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশের স্বার্থ রক্ষায় বাম, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও দেশপ্রেমিক শক্তির ঐক্য গড়ে তোলা দরকার।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানকে বড় করতে গিয়ে যাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন, আমার কাছে একাত্তর নিয়ে প্রশ্ন তোলা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। রাষ্ট্র এটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করবে কি না, সেটা তাদের বিষয়; কিন্তু জনগণ এটিকে দেশবিরোধী অবস্থান হিসেবেই দেখে।’
স্মরণসভার শুরুতে মোস্তফা মোহসীন মন্টুর মেয়ে শ্রাবণী মোস্তফা এবং মন্টুর ভাই তৌফিক এহসান বক্তব্য দেন। সভায় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে গণফোরামের প্রয়াত এই সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান।
এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এস এম আলতাফ হোসেন, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও সুরাইয়া বেগম।