সংকট বিএনপি তৈরি করেছে, সমাধানও তাদেরই করতে হবে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলের সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির সারজিস আলমসহ জোটের শীর্ষ নেতারাছবি: প্রথম আলো

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি সংকট তৈরি করেছে, এর সমাধানও তাদেরই করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই সংকট বিএনপি তৈরি করেছে। ফলে এই সংকট তাদেরকেই সমাধান করতে হবে এবং সেই সমাধানের রাস্তা কিন্তু বন্ধ হয়ে যায়নি।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়–সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের কর্মসূচি ঘোষণা করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংবিধান সংস্কার পরিষদের বৈঠক আহ্বান করতে পারেন। সেই সংস্কার পরিষদের বৈঠকে জুলাই সনদের গণভোটের যে ফলাফল হয়েছে, যে পাঁচ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, সেই গণভোটের ফল, অর্থাৎ পুরো জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে আইনে রূপান্তরিত করে সংবিধানের তফসিলে তারা অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সে সময় এখনো আছে।

গণভোটে পাঁচ কোটি মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ খারিজ করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে একজন ব্যক্তি শুধু সংবিধান সম্পর্কে তাঁর ইচ্ছামতো ব্যাখ্যা দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। তবে তিনি ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, সংসদে যে সংকট ও বিতর্কের সমাধান করা সম্ভব, বিএনপি যদি সেটিকে রাজপথে ঠেলে দিতে চায়, তাহলে বিরোধী দলের রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। সারা দেশে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলনকে গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-নগরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

সরকার গঠনের দেড় মাস না যেতেই তারা ফ্যাসিবাদের দিকে কদম কদম এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব হুমকি দিচ্ছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, রাজপথের আন্দোলনকে তাঁরা দমন করবেন। এটা আর হবে না, ওইটা হবে না—এসব ভাষাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের ভাষা। ফ্যাসিবাদের ভাষায় তাঁরা এখন আবার কথা বলছেন। চেঞ্জটা কী হলো!’

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, সংসদে যখন বলা হচ্ছে, দেশে কোনো জ্বালানির সংকট নেই, তখন এগুলো শুনে মানুষ হাসছে। পেট্রলপাম্পে শত শত গাড়ির লাইন। তবে বাঁশবাগানে, কবরস্থানে পেট্রল পাওয়া যাচ্ছে। দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ও অব্যবস্থাপনার চরম সংকটে জাতিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে, সরকারের পক্ষে দেশ চালানো সম্ভব নয়। তারা জাতির নয়, নিজেদের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টায় আছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিলেও সরকার এই রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছলচাতুরী ও টালবাহানার আশ্রয় নিচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষের ম্যান্ডেটকে শুধু উপেক্ষা নয়, উপহাস এবং জনগণকে অপমান করা হচ্ছে।

মামুনুল হক আরও বলেন, ১১ দল মনে করে, বর্তমান সরকার দেশের জন-আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করার বিপজ্জনক পথের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যে ফ্যাসিবাদকে অনেক লড়াই ও অনেক প্রাণের বিনিময়ে বিতাড়িত করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার আবার ভিন্নরূপে সেই ফ্যাসিবাদকেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, তাদের কার্যক্রম সেই বিষয়ে শঙ্কিত করে তুলছে। ১১ দল ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে।

সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আবদুল মাজিদ আতহারী, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১০টা থেকে আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জ্বালানিসংকট বিষয়ে বৈঠক করেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।