মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবুল কালাম আযাদ যেভাবে আছেন, সেভাবে থাকবেন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেনছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আবুল কালাম আযাদ ঠিক ১৩ বছর পর আত্মসমর্পণ করলে তিনি ‘যেমন আছেন, তেমন থাকার’ আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এ আদেশের ফলে তাঁকে কারাগারে যেতে হচ্ছে না, তিনি মুক্তই থাকছেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তার আগে থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের অক্টোবরে আবুল কালাম আযাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তার আগেই তাঁর দেশে ফেরার খবর আসে।

আজ সকালে তিনি আত্মসমর্পণ করতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। কিন্তু তাঁর আবেদন ট্রাইব্যুনাল দুপুরের পর শুনবেন জানতে পেরে তিনি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চলে যান। এরপর আবার বেলা আড়াইটার দিকে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে আসেন তিনি। সাড়ে তিনটার দিকে তিনি ট্রাইব্যুনালে ওঠেন।

শুনানিতে তাঁর আইনজীবী মো. মশিউল আলম বলেন, ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেন। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। এখন তাঁরা আপিল করবেন। সে কারণে মামলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের পর তিনি যেমন আছেন, তেমন থাকার আদেশ হয়
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

ট্রাইব্যুনাল প্রথমে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আযাদের আত্মসমর্পণ আবেদন মঞ্জুর করেন। তাঁকে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা হবে বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।

তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, তাঁর মক্কেলের বয়স ৮০ বছর। দুজনের সহযোগিতায় চলতে হয়। তা ছাড়া রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আসামির সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে।

তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, সরকারের সাজা স্থগিত করার এখতিয়ার নেই। রাষ্ট্রপতি ও আপিল বিভাগ সাজা স্থগিত করতে পারেন।

এরপর পুনরায় আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সেই আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুসারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবুল কালাম আযাদের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছে। এ অবস্থায় আসামিকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে যতক্ষণ না আপিল বিভাগ যথাযথ আদেশ দেন, ততক্ষণ আবুল কালাম আযাদ যেমন আছেন, তেমনই থাকবেন।

আদেশ দেওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আমরা জামিন দেব না, দেওয়া যায় না।’ তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী মশিউল আলম বলেন, তাঁরা জামিন চানওনি।

এরপর একটি প্রাইভেট কারে চড়ে আবুল কালাম আযাদ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণ ছাড়েন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়। সেই বিচার শুরুর পর প্রথম রায়ে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে সেই রায় দেওয়া হয়েছিল।