ঢাকা–১১ আসন
‘মানুষের মন জয় করতে পোস্টার দরকার হয় না’
এই আসনে প্রার্থী ১০ জন। ভোটার চার লাখের বেশি। ব্যানার–ফেস্টুন–বিলবোর্ডের প্রচারে এগিয়ে বিএনপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী।
মানুষের মন জয় করতে পারলে পোস্টার–ব্যানারের দরকার হয় না বলে মনে করেন ঢাকা–১১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কহিনূর আক্তার। তাঁর পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ব্যানার বা মিছিল নয়; মানুষের কাছে যাওয়াই ‘আসল রাজনীতি’।
ফুটবল প্রতীক নিয়ে ঢাকা–১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা একমাত্র নারী প্রার্থী কহিনূর আক্তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনী এলাকার বেশির ভাগ জায়গা ঘুরেও ফুটবল প্রতীকের ব্যানার-ফেস্টুন চেখে পড়ল না—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনি ভালো হলে মানুষ আপনাকে খুঁজে বের করবে। আমি যেখানে যাচ্ছি, মানুষ নিজেরাই লিফলেট নিয়ে যাচ্ছে। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মানুষের সাড়া পাচ্ছেন, তাই জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কহিনূর আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে বলে, ইনশা আল্লাহ আপনি কামিয়াব হবেন। তবে দু-একজন ব্যঙ্গও করে, এগুলো আমি গায়ে মাখি না।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। তাঁদের একজন কাজী মো. শহীদুল্লাহ। বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের (মুক্তি জোট) এই প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ‘ছড়ি’ প্রতীকে। জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি জয়ের কথা বলতে চাই না...আমি আকাশের থেকে বড়, আবার যথেষ্ট ক্ষুদ্র।’
রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা-১১ সংসদীয় আসন। এখানে ভোটার চার লাখের বেশি।
অনেকে বলে, ইনশা আল্লাহ আপনি কামিয়াব হবেন। তবে দু-একজন ব্যঙ্গও করে, এগুলো আমি গায়ে মাখি না।
ঢাকা-১১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তাঁর অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি শাপলা কলি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শেখ ফজলে বারী মাসউদ। এ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড রয়েছে।
সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে প্রচার চালানোর কথা জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুর রহমান। ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা এই প্রার্থীও জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। তিনি প্রথম আলোকে আরও বলেন, ‘আসলে জয়–পরাজয়ের চেয়ে যেটা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট (গুরুত্বপূর্ণ), সেটা আমি মনে করি যে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছি, যাচ্ছি; মানুষ অনেক সাড়া দিচ্ছে। মানুষ পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের বাইরে এসে পরিবর্তন চাচ্ছে।’
এ আসনে উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণফোরামের প্রার্থী মো. আবদুল কাদের। নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যানার–বিলবোর্ডের সংখ্যা একটু কম...অবৈধ কোনো অর্থও নেই, সে কারণে প্রচারণায় হয়তো অন্যদের চেয়ে একটু পিছিয়ে আছি। তবু আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
ভোটারদের ‘স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন’ পেয়েও জয়ের বিষয়ে অবশ্য খুব একটা আশাবাদী হতে পারছেন না আবদুল কাদের।
ঢাকা–১১ আসনের অন্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির শামীম আহমেদ (লাঙ্গল প্রতীক), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. জাকির হোসেন (হাতি) এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মিজানুর রহমান (আম)।