গুম-খুনের রাজনীতির জায়গা দখলে নিয়েছে মব সন্ত্রাস: সিপিবি সভাপতি
জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি বলেন, হাসিনার আমলে গুম-খুনের রাজনীতি হয়েছে। এগুলোর বিপরীতে এখন রাজনীতি দখল করে নিয়েছে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ) সন্ত্রাস এবং বুলডোজারের রাজনীতি।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তর জেলা কমিটির দ্বিতীয় সম্মেলনে শাহ আলম এ কথা বলেন।
সিপিবি সভাপতি শাহ আলম বলেন, উনসত্তর ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যে ছাত্ররা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাঁরা কোনো নতুন দল করেননি। কোনো ক্ষমতার অংশীদারও হননি। তাঁরা এ দেশের জনগণের চোখের মণি ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের প্রতি ইঙ্গিত করে সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘আপনারা ক্ষমতার অংশীদার হয়েছেন। বিএমডব্লিউ গাড়িতে চড়ছেন, ফ্লাইটে ঘুরছেন। শেরাটনে ইফতার পার্টি করছেন। আর এদিকে বৈষম্যের কথা বলছেন। এই তামাশা ছাড়েন।’
কেউ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বললেই তাঁদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস হচ্ছে উল্লেখ করে শাহ আলম বলেন, ৫ আগস্টের আগে দেশে জনগণের, গণতন্ত্রের শত্রু ছিলেন স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা। ৫ আগস্টের পর জনগণ ও গণতন্ত্রের শত্রু তাঁরা, যাঁরা জাতীয় নির্বাচনের আগে গণপরিষদ নির্বাচন চাচ্ছেন, জাতীয় নির্বাচনকে বিলম্ব করার চেষ্টা করছেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বর্তমান জনগণ ও গণতন্ত্রের শত্রু হচ্ছে সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি।
সিপিবি সভাপতি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কোনো আইনের শাসন নেই। মব সন্ত্রাস চলছে, সেটা দেখেও দেখছে না সরকার। সরকারের ঔরসজাত কিংস পার্টি গঠিত হয়েছে। তাদের প্রতি সরকারের সব সাহায্য–সহযোগিতা আছে, সেটা মানুষ দেখছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকার তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে, হারাচ্ছে। এ সরকারের আওতায় নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না—এ নিয়েও মানুষের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দিবালোক সিংহ বলেন, ‘এখন দেখতে পাচ্ছি, যারা একাত্তরে পরাজিত হয়েছে...তারা এই দেশে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এই দেশে পাকিস্তানের মন্ত্রী আসেন, তাঁরা বলে দিল সাফ করেন। এভাবে তাঁরা আমাদের এখানে আবার সেই পাকিস্তান ফিরিয়ে আনার, খেলাফত প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবারের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ঘটনাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি সাজেদুল হক বলেন, পুলিশ বাহিনী হাঁ করে দাঁড়িয়ে হাত-পা গুটিয়ে মব হতে দিয়েছে। মব হওয়ার পর মবের যাঁরা শিকার, তাঁদের গ্রেপ্তার করে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা করে। এই পরিবেশের জন্য ছেলেমেয়েরা রক্ত দেননি।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নুর বলেন, আন্দোলনে ৯০০ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। কিন্তু দেশের সাধারণ মানুষের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের এখনো ন্যায্য অধিকারের জন্য জীবন দিতে হচ্ছে।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ফেরদৌস আহমেদের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির চেয়ারম্যান জামাল হায়দার, আহ্বায়ক হাসান হাফিজুর রহমান, সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লাল পতাকা মিছিল হয়। শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গীতি-আলেখ্য ‘জাগো বাহে কোনঠে সবায়’ পরিবেশন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আগামীকাল শনিবার সকাল নয়টা থেকে সম্মেলনের সাংগঠনিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।