এনসিপির পদত্যাগী নেতা আরিফ সোহেলকে আহ্বায়ক করে গণবিপ্লবী উদ্যোগের ৩৬ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি

আরিফ সোহেলছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদত্যাগী নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে আহ্বায়ক করে ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’ নামের একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের ৩৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে অন্য ৩৫ জন ‘সংগঠক’ হিসেবে রয়েছেন।

আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির কথা জানানো হয়। আরিফ সোহেল নিজেই বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন। এই কমিটির মেয়াদ দুই মাস বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিলেন আরিফ সোহেল। অভ্যুত্থানের সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব হন, পরে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার দুদিন পর (৩০ ডিসেম্বর) দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন আরিফ সোহেল।

সংসদ নির্বাচনের আগের দিন গত ১১ ফেব্রুয়ারি আরিফ সোহেলসহ এনসিপির পদত্যাগী নেতাদের একাংশের উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে ‘গণবিপ্লবী উদ্যোগ’।

গণবিপ্লবী উদ্যোগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সকল ক্ষমতা জনগণের’—এই মৌলিক দর্শনকে সামনে রেখে গণবিপ্লবী উদ্যোগের সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ৩৬ সদস্যের এই প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রস্তুতি কমিটির সংগঠকেরা নিজ নিজ এলাকার বাস্তব সমস্যা ও প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, স্থানীয় গণসংগঠন গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেবেন। চেতনা নির্মাণ, জনগণকে সংগঠিত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতি, শিক্ষা, কৃষি, পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জনসেবায় বিকল্প মডেল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাংগঠনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন। এই কার্যক্রমে কেন্দ্রের ভূমিকা হবে সমন্বয় ও নীতিনির্ধারণ; স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও স্বশাসনকে গুরুত্ব দেওয়া।

এর পাশাপাশি প্রস্তুতি কমিটি তার দুই মাস মেয়াদের মধ্যে গণবিপ্লবী উদ্যোগের গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গঠনতন্ত্র প্রণয়নে জনগণ, প্রকৃতি, স্থানীয় সমাজ, ন্যায় ও নৈতিকতা এবং স্বশাসন—সংগঠনের এই পাঁচটি মৌলিক ভিত্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

৩৫ সংগঠক কারা

আরিফ সোহেল ছাড়া গণবিপ্লবী উদ্যোগের প্রস্তুতি কমিটিতে যে ৩৫ জন সংগঠক রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আছেন অদিতি, আজাদ খান ভাসানী, আজহারুল হক লিংকন, আবদুল্লাহ আল সোহানুর ইসলাম, আবদুল্লাহ সালেহীন অয়ন, আবদুস সামাদ আজিজ, আবির হাসান, আমিনুল হুদা আমান, আসিফ নেহাল, ইমতিয়াজ রাকিবুল, উম্মে খায়ের ঈদি, কবির আলমগীর, খন্দকার নিয়াজ রহমান, খান মুহাম্মদ মুরসালীন, জার্জীস আহমেদ, তানজিনা তাম্মিম, তাপসী রাবেয়া ও নাহিদ ইসলাম।

অন্য সংগঠকেরা হলেন ফারজানা আক্তার, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া, মাসুম সরকার রাজা, মাহাথির মেসুত, মিশু আলী, মো. আশিকুর রহমান খান, মো. তানভীর হাসান, মো. মাস্‌উদুজ্জামান, মো. রাকিবুল হাসান, মোহাম্মদ ফাহিম আহম্মেদ, মোহাম্মদ মাজেদুর রহমান, রাঈদ হাসান, রোকন শেখ, লিখন ইসলাম, শিবলী মোস্তফা খান, সাখাওয়াত হোসেইন ও সুমাইয়াহ রহমান।