স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল
ফাইল ছবি

সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকির চেয়ে কম নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের আমারি ঢাকা হোটেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রভাববিষয়ক এ আলোচনার আয়োজন করে দ্য বাংলাদেশ সেন্টার ফর ইন্দো-প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স (বিসিআইপিএ)।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে মর্টার শেল এসে পড়েছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। এ কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কূটনীতিক শালীনতা বজায় রেখে এর প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। এটা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও অপরাধ।’

মিয়ানমারের মর্টার শেল বাংলাদেশে পড়ার বিষয়টি সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে দেখার অনুরোধ জানিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় মিয়ানমার সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকির চেয়ে কম নয়। এ সমস্যার সমাধানে তাদের পদক্ষেপ ও সহযোগিতা চান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু আমাদের দেশকেই আক্রান্ত করবে না, সারা বিশ্বকেই আক্রান্ত করবে। আমি অনুরোধ করব, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।’ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সত্যিকার অর্থে প্রতিবেশী দেশ চেষ্টা করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা খুবই উদ্বিগ্ন, গত মাস থেকে আমাদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এই সহিংসতা চলছে। আমাদের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নষ্ট করে মিয়ানমারের ড্রোন আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করছে। মিয়ানমারে এ অবস্থা চলতে থাকলে হয়তো কিছু মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। আমাদের সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবে। এ বার্তা রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মিয়ানমারকেও জানানো হয়েছে।’ মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে জোরালো প্রতিবাদলিপিও দেওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রসচিব।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাপান, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন।

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট ডিকসন বলেন, ‘মিয়ানমারে যেন যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ না হয়, সেই বিষয়ে উৎসাহিত করি।’ তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে।

জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমস্যার মূল সমাধান হলো তাদের প্রত্যাবর্তন। বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে জাপান সহযোগিতা করবে।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিসিআইপিএর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক শাহাব এনাম খান। এতে মিয়ানমার ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হোসে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাব্বির আহমেদ, রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি কি থিং অং, রোহিঙ্গাদের পুরোনো সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা ন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের (এআরএনও) সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।