প্রচারে নতুনত্বের সঙ্গে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ কৌশল তারেক রহমানের

শ্রোতাদের মঞ্চে ডেকে তারেক রহমানের কথোপকথন আলোচনা তৈরি করেছে। নিজেকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান। ২৩ জানুয়ারি ঢাকার ভাষানটেকে।ছবি: প্রথম আলো

নেতা বাণী দেবেন আর সমর্থকেরা দেবেন হাততালি ও স্লোগান। এই চিরচেনা রেওয়াজের বদলে নির্বাচনী জনসভায় মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের চমক এনেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রচারণায় যুক্ত করেছেন মেয়ে আর স্ত্রীকে। ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হয়ে শুনিয়েছেন শান্তির বাণী।

‘আমি তোমাদেরই লোক’—ভোটারদের কাছে, বিশেষত তরুণদের কাছে, এই বার্তা পৌঁছে দেওয়াই যেন ছিল তাঁর প্রচারকৌশলের মূলকথা। এভাবেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে বয়ানও দাঁড় করিয়েছেন।

তারেক কখনো দর্শকসারি থেকে সাধারণ মানুষকে ডেকে মঞ্চে এনেছেন, কখনো মঞ্চ থেকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন, সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন, উত্তর দিয়েছেন।

১০ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারের নির্ধারিত সময়কালে তারেক রহমান দেশজুড়ে অন্তত ৬৪টি জনসভা করেছেন, সপরিবার প্রচার চালিয়েছেন। এগুলোতে তাঁর প্রচারের কৌশলটি স্পষ্ট। প্রচারের জন্য সাজানো বাসে তিনি বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছেন। কয়েকটি জায়গায় যান হেলিকপ্টারে।

তারেক কখনো দর্শকসারি থেকে সাধারণ মানুষকে ডেকে মঞ্চে এনেছেন, কখনো মঞ্চ থেকে সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকার সমস্যার কথা শুনেছেন, সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, প্রশ্ন করেছেন, উত্তর দিয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয় ২২ জানুয়ারি। ওই দিন সিলেট শহরে জনসভার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রচারকাজের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। সেখানেই তিনি প্রথম এক ব্যক্তিকে দর্শকসারি থেকে মঞ্চে কথা বলতে ডেকে নেন। বিষয়টি উপস্থিত জনতার মধ্যে সাড়া ফেলে।

সিলেটে তারেক রহমান বলেন, এবার তিনি জনসভায় উপস্থিত মানুষকে একটি প্রশ্ন করতে চান। এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির খোঁজ করেন, যিনি পবিত্র হজ অথবা ওমরাহ পালন করেছেন। অনেকেই হাত তোলেন। তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে মঞ্চে ডেকে নেন। জানতে চান, তাঁর বাড়ি কোথায়। উত্তর আসে, সুনামগঞ্জ। তখন তারেক রহমান জনসভার মানুষদের কাছে জানতে চান, সেখানে সুনামগঞ্জের বাসিন্দারা আছেন কি না। শত শত মানুষ হাত তোলেন।

এরপর মঞ্চে ডেকে নেওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের যুবক এ টি এম হেলালের সঙ্গে তারেক রহমানের কথোপকথন শুরু হয়। দুজনই মাইকে কথা বলছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, বেহেশত-দোজখের মালিক কে? হেলাল উত্তর দেন, ‘আল্লাহ।’ তখন তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত মানুষের কাছে প্রশ্ন করেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? সমস্বরে উত্তর আসে, ‘না।’

আরও পড়ুন

যোগাযোগবিদেরা বলছেন, একজন পরহেজগার ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে কথোপকথনের মাধ্যমে তারেক উপস্থিত জনতাকে সংলাপে যুক্ত করেছেন এবং ভোটের প্রচারে ধর্মকে টেনে আনার বিরুদ্ধে একটি জবাব দিয়েছেন।

পরে অন্য এলাকায় জনসভা এবং তরুণদের সঙ্গে আলাপে তারেক রহমান এই কৌশল ব্যবহার করেছেন। বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তুলনামূলকভাবে নতুন ও চমকপ্রদ একটি কৌশল। এটা প্রচলিত ‘একতরফা বক্তৃতা’ থেকে জনসভাকে কিছুটা আলাপচারিতার আদল দিয়েছে। ভোটারদের কাছে এই বার্তা গেছে, দলের প্রধান নেতা কেবল একাই কথা বলছেন না। তিনি সবার কথা শুনছেনও।

এরপর মঞ্চে ডেকে নেওয়া সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের যুবক এ টি এম হেলালের সঙ্গে তারেক রহমানের কথোপকথন শুরু হয়। দুজনই মাইকে কথা বলছিলেন। তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, বেহেশত-দোজখের মালিক কে? হেলাল উত্তর দেন, ‘আল্লাহ।’ তখন তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত মানুষের কাছে প্রশ্ন করেন, যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? সমস্বরে উত্তর আসে, ‘না।’

বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রচারের একটি বড় লক্ষ্য হলো তরুণ ও নতুন ভোটাররা, যাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করতে বেশি অভ্যস্ত। একতরফা টানা বক্তৃতার একঘেয়েমির বদলে জনসভায় সরাসরি সংলাপ এই ভোটারদের টানবে বেশি।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মতে, জনসভায় জনগণের মধ্য থেকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে কথা বলার এই মিথস্ক্রিয়া নতুন রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে নেতা এবং জনগণের মধ্যে সমস্যা এবং সমাধানের সরাসরি অঙ্গীকার নিশ্চিত হয়। রিজভী প্রথম আলোকে বলেন, যে নেতা সরাসরি সমস্যার কথা শোনেন বা শোনার আগ্রহ দেখান, তাঁর দ্বারাই এর সমাধানের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে মানুষ মনে করে।

দর্শক–শ্রোতাদের সঙ্গে রাখা

বৈশ্বিক পর্যায়ে এ ধরনের কৌশলের নজির আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানির প্রচারের বড় অংশই ছিল ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ’। অর্থাৎ মামদানি শুধু একতরফা বলতেন না, শুনতেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘টাউন হল মিটিং’-এর মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও বিভিন্ন সময় জনতার সঙ্গে খোলা সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

রাজনীতিতে এ ধরনের প্রচারকৌশলের লক্ষ্য থাকে নেতা ও প্রান্তিক জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমানো। ঢাকার ভাষানটেকে গত ২৩ জানুয়ারির জনসভায় তারেক রহমান মঞ্চের সামনে উপস্থিত শ্রমজীবী মানুষ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, নারী, তরুণসহ পাঁচজনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তাঁরা কেউ জীবিকার সংকটের কথা বলেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা বা দ্রব্যমূল্যের চাপের কথা তুলে ধরেন। তারেক রহমান তাঁদের আশ্বাস দেন, প্রশ্ন করেন, পুরো জনসভাকে সেই আলোচনায় ডেকে নেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ‘টাউন হল মিটিং’-এর মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিতেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও বিভিন্ন সময় জনতার সঙ্গে খোলা সংলাপে অংশ নিয়েছেন।

তুলনা করা যায় প্রাণবন্ত কনসার্টের সঙ্গে। সেখানে মঞ্চের সংগীতশিল্পীরা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন আর শোনেন, প্রশ্ন নেন, উত্তর দেন। তারকাদের জন্য বিশ্বব্যাপী এটি একটি জনপ্রিয় কৌশল। যোগাযোগের ভাষায় একে বলা হয় ‘অডিয়েন্স এনগেজমেন্ট’; অর্থাৎ দর্শক–শ্রোতাদের যুক্ত করা।

আজকের দিনে নতুন মাত্রা এনেছে হাতের নাগালে থাকা অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে আছে বিপুলসংখ্যক তরুণ এবং নতুন ভোটার, যাঁরা রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্রের মতো পুরোনো মাধ্যমের চেয়ে নতুন মাধ্যমগুলোতে অভ্যস্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক এস এম শামীম রেজা বলছেন, পুরোনো দিনেও ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ ক্যাম্পেইন’ ছিল। জনসংযোগের মূল ভিত্তি ছিল মানুষের কাছে যাওয়া, তাঁদের কথা শোনা। এমনকি স্থানীয় নির্বাচনে মানুষের মতামত নিয়ে এলাকার এজেন্ডা তৈরি করা।

তবে শামীম রেজা বলছেন, আজকের দিনে নতুন মাত্রা এনেছে হাতের নাগালে থাকা অসংখ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। একই সঙ্গে আছে বিপুলসংখ্যক তরুণ এবং নতুন ভোটার, যাঁরা রেডিও-টেলিভিশন-সংবাদপত্রের মতো পুরোনো মাধ্যমের চেয়ে নতুন মাধ্যমগুলোতে অভ্যস্ত। এই যোগাযোগবিদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার ধারণা, এ দুটি বিষয় উনি সমানভাবে দেখার চেষ্টা করছেন।’ অর্থাৎ তারেক রহমান একটা সামগ্রিক প্রচার চালাতে চেয়েছেন।

৫৭ বছর বয়সী তারেক রহমান আগেও এভাবে সভা-সমাবেশ করতেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০০২ সালে তিনি দলটির যুগ্ম মহাসচিব হয়েছিলেন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি, ছাত্রদলের প্রতিনিধিদের সভায় তিনি এই চর্চা করেছেন। গত মাসে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান হন। এর পাঁচ দিন আগে যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরেন তিনি।

তারেক রহমান এই প্রথম কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১৭ (গুলশান, বারিধারা, বনানী ও ক্যান্টনমেন্টের একাংশ) এবং বগুড়া–৬ আসনের প্রার্থী।

শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা

তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন থেকেই বলছেন, দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফেরানো তাঁর অগ্রাধিকার। তিনি রাজনীতিতে সহনশীলতার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘যেকোনো মূল্যে উসকানির মুখে শান্ত থাকতে হবে। আমরা দেশে শান্তি চাই।’ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা যেকোনো ধর্ম, শ্রেণি, দলের মানুষ হই—আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, আমরা শান্তিশৃঙ্খলা ধরে রাখব।’

নির্বাচনী জনসভাগুলোর বক্তৃতাতেও তারেক বলেছেন, বিএনপি জয়ী হলে আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। অন্যদিকে গত ২৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের জনসভায় তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীর অনেক দোষত্রুটি তুলে ধরা যায়; কিন্তু তাতে জনগণের কোনো উপকার হবে না। শুধু সমালোচনা করার জন্য সমালোচনা করলে দেশের মানুষের পেট ভরবে না।

তবে তারেক রহমান তাঁর একাধিক কর্মসূচিতে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা এবং ভোটের রাজনীতিতে ধর্মকেন্দ্রিক বয়ানের সমালোচনা করেছেন।

প্রচারকালে তারেক রহমানের কিছু সমালোচনাও হয়েছে। যেমন জনসভায় দু–একটি ভুল তথ্য দেওয়া। কুমিল্লায় গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে কুমিল্লায় রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) করবেন। যদিও কুমিল্লায় ২০০০ সালেই ইপিজেড হয়।

‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন

মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি এবার তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী জনসভায় স্ত্রী চিকিৎসক জুবাইদা রহমানকেও পাশে রেখেছেন। সিলেটের প্রথম জনসভার পর রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বগুড়ায় জনসভায় দেখা গেছে জুবাইদা রহমানকে। তবে তিনি বক্তব্য দেননি।

জুবাইদা রহমান এবং তারেক–জুবাইদার মেয়ে জাইমা রহমান দেশে আসার পর নারীদের সঙ্গে আলাপ, প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ার বিতরণ, চা–চক্র, বস্তি পরিদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের রিকশায় করে নির্বাচনী প্রচার চালাতেও দেখা গেছে। যেমন গত রোববার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে লেডিজ অব গুলশান, বনানী, বারিধারা, ডিওএইচ ও নিকেতনের উদ্যোগে আয়োজিত নারী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবাবিষয়ক আলোচনা ও চা–চক্রে ছিলেন জুবাইদা রহমান। অন্যদিকে একটি রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ী ১০ জন তরুণ-তরুণীর সঙ্গে একান্ত আলাপে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে জাইমা রহমান।

নির্বাচনে বিএনপির প্রতিপক্ষ জামায়াতের কোনো কোনো নেতার নারীকেন্দ্রিক বক্তব্যে সমালোচনা তৈরি করছে। বিপরীতে নির্বাচনী প্রচারে তারেক রহমান স্ত্রী ও সন্তানকে পাশে রেখে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিবারকে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সচরাচর পশ্চিমা বিশ্বে দেখা যায়। নির্বাচনী প্রচারে এ কৌশল নিয়ে প্রার্থী ভোটারদের কাছে নিজেকে ‘ফ্যামিলি ম্যান’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ফ্যামিলি ম্যান অর্থাৎ একজন দায়িত্বশীল স্বামী, স্নেহময় পিতা এবং পারিবারিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষ। যোগাযোগবিদেরা বলছেন, রাজনীতিতে এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় কৌশল—কঠোর বা গম্ভীর রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে নিজেকে একজন সাধারণ এবং নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে তুলে ধরা।

প্রচারের শেষের দিকে গত সোমবার বিটিভিতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমান অতীতের ভুলত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘অতীতে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি একাধিকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। দেশ পরিচালনা করতে গিয়ে সেই সময় কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের অনিচ্ছাকৃত কিছু ভুলত্রুটি হয়েছে। সে জন্য আমি দেশবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার করেন।

এবারের ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটারের কাছে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা পৌঁছানোর জন্য তারেক রহমানের প্রচারকৌশলগুলো কতটা ফল দিল, তা বলবে ১২ ফেব্রুয়ারির গণরায়।