ঢাকায় নিজ নিজ আসনে এগিয়ে তারেক, শফিকুর ও নাহিদ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামফাইল ছবি

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শীর্ষ চার নেতার নির্বাচনী আসনে জরিপ করেছে ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠন। এই চার দলের প্রধানেরা ঢাকায় পৃথক চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জরিপের ফল অনুযায়ী, বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির প্রধানেরা নিজ নিজ আসনে এগিয়ে আছেন। আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রধান তাঁর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে পিছিয়ে আছেন।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ করেন ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’–এর প্রেসিডেন্ট ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক শিব্বির আহমদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী এ কে এম ফাহিম মাশরুর। ‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত একটি মানবাধিকার গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা, যা বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা ও বিকাশের জন্য কাজ করে বলে নিজের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করেছে।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ঢাকা–১৭ আসনের প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ঢাকা–১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ও ঢাকা–১১ আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এগিয়ে আছেন। আর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল ইসলামের ঢাকা–১৩ আসনে তাঁর চেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ।

আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত, এনসিপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

‘সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ’ জানিয়েছে, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি চার দিনে ঢাকার ৪ আসনে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ২ হাজার ২৪১ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং নারী ৪৬ দশমিক ২০ শতাংশ। জরিপে ২ হাজার ১৫৪ জন মুসলিম, ৮২ জন হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মের ৫ জন অংশ নিয়েছে।

ঢাকা–১৭ আসনে তারেক রহমান

ঢাকা–১৭ আসনে ৫১৫ জন ভোটারের তথ্য নিয়ে জরিপ করা হয়েছে। জরিপের একটি প্রশ্ন ছিল—এই আসনে কোন প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে? এর উত্তরে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আর ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন জামায়াতের প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান। কে নির্বাচিত হতে পারেন, তা জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা।

জরিপে আরেকটি প্রশ্ন ছিল—আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন? এর উত্তরে ৩৫ শতাংশ তারেক রহমান এবং ৩২ শতাংশ বলেছেন খালিদুজ্জামানকে ভোট দেবেন।

ঢাকা–১৫ আসনে শফিকুর রহমান

ঢাকা–১৫ আসনে ৫১৪ জন ভোটারের ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে প্রশ্ন ছিল, এই আসনে কে বিজয়ী হতে পারেন? জবাবে দেখা যায়, ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার মনে করছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বিজয়ী হবেন; আর ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটার মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান জিততে পারেন। কে নির্বাচিত হতে পারেন, তা জানেন না বলে উল্লেখ করেছেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আর কিছু বলতে চাননি ৪ দশমিক ১ শতাংশ।

আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন—জরিপে এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ শফিকুর রহমান এবং ৩০ শতাংশ বলেছেন শফিকুল ইসলাম খানকে ভোট দেবেন বলে উল্লেখ করেন।

ঢাকা–১১ আসনে নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-১১ আসনে ৬০৬ জন ভোটারের তথ্য নিয়ে জরিপ করেছে সংগঠনটি। জরিপের ফল বলছে, ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ ভোটার মনে করছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বিজয়ী হবেন আর ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী এম এ কাইয়ুম জিততে পারেন। কে নির্বাচিত হতে পারেন, তা জানেন না ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। আর কে জিততে পারে, তা বলতে চাননি ২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটার।

আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন—জরিপের এমন প্রশ্নের উত্তরে ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ নাহিদ ইসলাম এবং ৩৭ শতাংশ বলেছেন এম এ কাইয়ুমকে ভোট দেবেন।

ঢাকা–১৩ আসনে ববি হাজ্জাজ

ঢাকা-১৩ আসনে ৬০৬ জন ভোটারের ওপর পরিচালিত জরিপের ফলে দেখা যায়, এই আসনে কে বিজয়ী হতে পারে, এমন প্রশ্নে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ ভোটার মনে করছেন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ জিতবেন। মাওলানা মামুনুল হক জিতবেন বলে মনে করেন ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ। কে নির্বাচিত হতে পারেন, তা জানেন না ১০ দশমিক ৪ শতাংশ। কিছু বলতে চাননি ৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

আজ নির্বাচন হলে কাকে ভোট দেবেন, জরিপের এমন প্রশ্নের উত্তরে ৩৬ দশমিক ৮ শতাংশ ববি হাজ্জাজ এবং ৩৪ শতাংশ বলেছেন মামুনুল হককে ভোট দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান

জরিপে ২ হাজারের বেশি ভোটারের কাছে প্রশ্ন ছিল, কে প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন? উত্তরে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ তারেক রহমান এবং ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ শফিকুর রহমানের কথা বলেছেন।

জরিপের তথ্য বলছে, আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন ৯১ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে জামায়াতের ভোট বেশি। আর পঁয়ত্রিশোর্ধ্বদের মধ্যে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের সঙ্গে ভোটের অনুপাত প্রায় সমান। মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ জামায়াতকে আর ৩৪ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেবে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটারদের প্রায় অর্ধেক (৪৮ শতাংশ) পাবে বিএনপি, জামায়াত পাবে ১৭ শতাংশ। এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এমন ভোটার রয়েছে ২০ শতাংশ।

প্রথমবারের ভোট, এগিয়ে জামায়াত

বিগত কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি, এমন ভোটারদের মধ্যে ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ জামায়াতকে এবং ৩২ দশমিক ২ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখনো কাকে ভোট দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেননি ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

আওয়ামী লীগের ৩৭.৯% ভোট বিএনপি, ৩৭% জামায়াতের দিকে

সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের ভোট এবার বিএনপি ও জামায়াত জোটে ভাগাভাগি হবে। জরিপের ফল বলছে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট বিএনপি এবং ৩২ শতাংশ ভোট জামায়াত পাবে। কাকে ভোট দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত এখনো নেননি ১০ দশমিক ৮ শতাংশ।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিগত সময়ে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছিলেন, এমন ভোটারদের মধ্যে এবার ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ বিএনপিকে এবং ৩১ দশমিক ৬ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেবেন। এ ছাড়া ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এখনো কাকে ভোট দেবেন—সেই সিদ্ধান্ত নেননি।