দুই মাসেই জনগণ বুঝে গেছে, বিএনপির শাসন কেমন হবে: এবি পার্টির চেয়ারম্যান
বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন কেমন হবে, তা দুই মাসেই দেশের জনগণ বুঝে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। আজ শনিবার সকাল ১০টায় এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
মজিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি কী আগের মতোই দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারী কায়দায় সরকার চালাবে, নাকি আদতেই ৩১ দফার ভিত্তিতে তারা রাষ্ট্র মেরামত করবে—গত দুই মাসে জনগণ তা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছে। দুই মাসেই জনগণ বুঝে গেছে, বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন কেমন হবে।’
মজিবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ, বিসিবির নির্বাচিত বোর্ড বাতিল করে মন্ত্রীর সন্তানদের দিয়ে বোর্ড গঠন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলের মহড়া ও সন্ত্রাস, থানার ভেতরে গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, দুই মাসে ৪১ হাজার কোটি টাকার ঋণ, সংকট না থাকা সত্ত্বেও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে জ্বালানির জন্য হাহাকার, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের আতঙ্ক, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ভয়াবহতা—এ রকম শত শত ঘটনা ও পরিসংখ্যান পরিষ্কার বার্তা দেয়, কেমন যাবে বিএনপির আগামী ৫৮ মাস।
অনেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেন, কিন্তু স্লোগানগুলো হৃদয় দিয়ে ধারণ করেন না বলে অভিযোগ করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, তাঁরা সবার আগে বাংলাদেশের পরিবর্তে, সবার আগে দলীয় নীতিতে চলে গেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, ‘এবি পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অঙ্গীকার হচ্ছে, আমাদের স্বপ্ন আমরা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবই।’
মজিবুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন, বিএনপি চেয়ারপারসন (খালেদা জিয়া) ছিলেন আপসহীন নেত্রী। কিন্তু তাঁর সেই রেখে যাওয়া বিএনপির একজন নেতার গত পরশু দিনের বক্তব্যে দেশবাসী হতাশ হয়েছে। উনি বলেছেন, ওনারা নাকি শুধু একটি নির্বাচনের জন্য সংস্কার নিয়ে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন। এটি দেশের জন্য লজ্জার, যা আবার প্রধানমন্ত্রী টেবিল চাপড়িয়ে অভিবাদনও জানিয়েছেন।’
সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন রাজনীতির বন্দোবস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এবি পার্টি শুরু থেকেই যেসব তর্ক ও প্রস্তাব সামনে এনেছিল, সেগুলো আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘পুরোনো ধ্যানধারণার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের যে দাবি আজ জোরালো হয়েছে, তা এবি পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই তুলে আসছে। প্রতারণামূলক পুরোনো রাজনৈতিক ধারার অবসান ঘটিয়ে জনগণকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
দলের কেন্দ্রীয় অফিস–সংলগ্ন বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা। শোভাযাত্রাটি বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, নাইটিংগেল ও কাকরাইল হয়ে আইডিইবি ভবনের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইনের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য দেন দলটির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এ বি এম খালিদ হাসান ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল বাসেত মারজান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম, উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান প্রমুখ।