ডাকসু: বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ইশতেহার
গবেষণা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা এবং ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহার ঘোষণা করেছে ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’। হলে গেস্টরুম (অতিথিকক্ষে আদবকায়দা শেখানোর নামে নির্যাতন) ও গণরুম সংস্কৃতি চিরতরে মুছে ফেলার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ-সমর্থিত প্যানেলটি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের ইশতেহার প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ। এতে প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আব্দুল কাদের প্রারম্ভিক বক্তব্য দেন এবং ইশতেহারের কিছু অংশ পাঠ করেন। ইশতেহারের বাকি অংশ পাঠ করেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী আশরেফা খাতুন। উল্লেখ্য, ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৯ সেপ্টেম্বর।
‘রাজনৈতিক’ শিরোনামে ইশতেহারের প্রথম দফায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। ক্যাম্পাসে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রারম্ভিক বক্তব্যে আব্দুল কাদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে কেউ বানিয়েছে ক্যান্টনমেন্ট, কেউ বানিয়েছে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প (নিপীড়নের বন্দিশালা)। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে ডাকসুতে এমন নেতৃত্ব দরকার, যাঁরা ক্ষমতাসীনদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে দ্বিধা করবে না; যারা শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রে বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রকে বরদাশত করবে না।
‘রাজনৈতিক’ শিরোনামে ইশতেহারের প্রথম দফায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। ক্যাম্পাসে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে। হল ও একাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা হবে।
ভর্তিপ্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল, প্রবেশপত্র উত্তোলন, বেতন পরিশোধ—সবই এর মাধ্যমে করা যাবে।
‘একাডেমিক ও প্রশাসনিক’ শিরোনামে ইশতেহারে দ্বিতীয় দফায় বলা হয়, ৭৩-এর অধ্যাদেশের স্বায়ত্তশাসনকে অর্থবহ করার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রশাসনিক স্বৈরতন্ত্র’ অবসানের লক্ষ্যে উপাচার্য, সহ-উপাচার্য, হল প্রাধ্যক্ষসহ প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া ৩০০ একর জমি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে।
‘ওয়ান-স্টপ সলিউশন’ নামের একটি অ্যাপ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলা হয়, এই অ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রেজিস্ট্রার ভবনে দৌরাত্ম্য ও সিন্ডিকেট বন্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ভর্তিপ্রক্রিয়া থেকে শুরু করে পরীক্ষার ফলাফল, প্রবেশপত্র উত্তোলন, বেতন পরিশোধ—সবই এর মাধ্যমে করা যাবে।
‘স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার বা শিক্ষার্থী কল্যাণ’ শিরোনামে ইশতেহারের তৃতীয় দফায় বলা হয়, ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’-এর মাধ্যমে পাঠাগার সুবিধা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও ক্যানটিন সেবা এবং হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ (এক শিক্ষার্থী, এক আসন) নীতিমালার অধীনে হল প্রশাসনকে শক্তিশালী করে আসন বণ্টনের একটি সমন্বিত নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
‘নারী’ শিরোনামে ইশতেহারের অষ্টম দফায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপরিসর নারীবান্ধব করা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হবে।
‘স্টুডেন্ট ডিগনিটি বা শিক্ষার্থীর মর্যাদা’ শিরোনামে ইশতেহারের চতুর্থ দফায় বলা হয়, দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাবসহ পোশাক ও আঞ্চলিকতাকেন্দ্রিক ‘মোরাল (নৈতিকতা) পুলিশিং’-এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। ভিন্নধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদ্রাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের ‘অপরায়ন’ ও বৈষম্য বন্ধ করা হবে।
‘ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি’ শিরোনামে ইশতেহারের পঞ্চম দফায় স্টারলিংকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চ গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
‘ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট’ শিরোনামে ইশতেহারের ষষ্ঠ দফায় খণ্ডকালীন চাকরির ব্যবস্থা এবং হলে হলে আউট সোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ‘কালচার ও স্পোর্টস’ শিরোনামে সপ্তম দফায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তৈরির কথা বলা হয়েছে।
‘নারী’ শিরোনামে ইশতেহারের অষ্টম দফায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপরিসর নারীবান্ধব করা হবে। নারী শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করতে ‘বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হবে।