মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান আর বিএনপি পিছিয়ে নিয়ে যেতে চায়, এটা মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জ আছে অপশক্তিকে রোধ করার। আমরা কোনো শক্তিকে খাটো করে দেখতে চাই না। মোকাবিলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে জনসভা হবে। পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় চট্টগ্রাম জেলার সব উপজেলা-ইউনিয়ন, মহানগরের ৪১ ওয়ার্ডের সব ইউনিটের প্রত্যেক নেতাকর্মীকে হাজির থাকতে হবে।’

যৌথ সভায় আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের এখন থেকে দলকে গোছাতে হবে, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে। প্রত্যেকটা ইউনিটকে ঢেলে সাজাতে হবে। সংগঠন শক্তিশালী না হলে স্বাধীনতাবিরোধী বিএনপি-জামায়াত অপশক্তিকে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে ভালোবাসেন বলেই প্রধানমন্ত্রী ৪ ডিসেম্বর প্রথমে চট্টগ্রামে জনসভা করবেন। অতীতে যেভাবে জনসভা করেছি, এবারও একইভাবে চট্টগ্রামের অতীতের সব জনসভার ইতিহাস আমরা ভঙ্গ করব। আমাদের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী। ইনশাআল্লাহ, মানুষ কানায় কানায় ভর্তি হয়ে এই পলোগ্রাউন্ড উপচে পড়বে।

চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪ ডিসেম্বরের চট্টগ্রামের জনসভার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের অতীতের সকল জনসভার রেকর্ড ভঙ্গ করতে হবে। এই জনসভাকে আমরা জনসমুদ্রে পরিণত করতে চাই।

নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান, মাহফুজুর রহমান ও খাদিজাতুল আনোয়ার, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের মফিজুর রহমান, সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য চেমন আরা তৈয়ব, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এটিএম পেয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

সভা শেষে নগর ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের ঘোষণা দেন আবু সাঈদ আল মাহমুদ কমিটি। তিনি বলেন, ‘৪ ডিসেম্বর নেত্রীর জনসভা থাকায় ১২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সম্মেলন হবে। ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ  সব কমিটি শেষ করতে হবে। দলীয় সভানেত্রীর অনুমতি নিয়ে ১৮ ডিসেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে চাই।’

উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। সমাবেশে অংশ নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছিলেন, চট্টগ্রামে শুরু হওয়া আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে।