অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ ত্যাগের জন্য রাজনীতিতে এসেছিলেন

অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বরছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদের মধ্যে লোভ, লালসা ছিল না। ভোগের জন্য নয়, ত্যাগের জন্যই তিনি রাজনীতিতে এসেছিলেন। তিনি দেশ ও মানুষের জন্য সারা জীবন ত্যাগ করে গেছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সততা বজায় রেখেছিলেন, যা বর্তমান ভোগের রাজনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।

মোজাফ্ফর আহমদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তাঁর স্বজন ও রাজনীতিবিদেরা। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সভার আয়োজন করে ন্যাপ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ন্যাপের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যকরী সভাপতি ও মোজাফ্ফর আহমদের মেয়ে আইভি আহমেদ। তিনি বলেন, মোজাফ্ফর আহমদ সার্বক্ষণিক দেশের কথা চিন্তা করতেন। তিনি সারা জীবন দেশ ও মানুষের জন্য ত্যাগ করে গেছেন। কোনো লোভ–লালসার মধ্যে তিনি ছিলেন না। নিজের কথা তিনি কখনো ভাবেননি।

বর্তমান প্রজন্মের উদ্দেশে আইভি আহমেদ বলেন, আপনারা এখন যে রাজনীতি দেখেন, বাবা ছিলেন এর ঠিক বিপরীত। তিনি ও তাঁর মতো নেতারা সব সময় ত্যাগ করে গেছেন। ভোগের জন্য নয়, ত্যাগের জন্য রাজনীতিতে তিনি এসেছিলেন।

জেল-জুলুম নয়, মোজাফ্ফর আহমদের সবচেয়ে বড় ত্যাগ ছিল আট বছর আত্মগোপনে থাকা উল্লেখ করে আইভি আহমেদ বলেন, ‘বাবা আমাকে আড়াই বছর বয়সে রেখে আত্মগোপনে যান। আমার বাবা কে, আমি জানতাম না। ছোট ছিলাম বলে আমাকে জানানো হতো না। বাবাকে দেখলে পুলিশকে বলে দেব বলে আমাকে জানানো হয়নি। আমি যখন বড় হতে শুরু করলাম, তখন বাবা আমাকে দেখা দিলেন। প্রথম দেখা হলো একজন লোক মুখভর্তি দাড়ি, পরনে লুঙ্গি, হাতে টর্চ, কাঁধে ঝোলা; আর ব্যাগে কিছু খেলনা।’

এ সময় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, আত্মগোপনের সময় মোজাফ্ফর আহমদ মানুষকে সংগঠিত করেছেন। মোজাফ্‌ফর আহমদ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রাজনীতির প্রতি সততা বজায় রেখে গেছেন।

লুটেরা ধনী শ্রেণির কাছে সরকার জিম্মি হয়ে পড়ছে এবং কেউ সুখে নেই দাবি করে বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘দলে দলে অনেকেই আওয়ামী লীগার হয়েছে। তাই আজকে মোজাফ্ফর আহমদের ত্যাগের মহিমায় এগিয়ে যেতে হবে।’

মোজাফ্ফর আহমদের দেশপ্রেম, প্রগতিশীল ও সমাজতান্ত্রিক চিন্তা নিয়ে আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাম রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের বিকল্প শক্তি হিসেবে আসার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোজাফফর হোসেন। তিনি বলেন, ‘এ দেশে প্রগতিশীল শক্তির উত্থান আমরা চাই। আমরা চাই, আপনারা আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি হোন। বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে যেন আপনারা ক্ষমতায় আসেন। প্রতিক্রিয়াশীল চক্র যেন সুযোগ নিতে না পারে।’

জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপস করে নয়, তাদের পরাজিত করে মুক্তিযুদ্ধের আলোকে এ দেশকে গড়ে তুলতে হবে—এমন শিক্ষা পাই মোজাফ্ফর আহমদের কাছ থেকে।

স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন। এ সময় বক্তব্য দেন ন্যাপের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. আলী খান, কাজী সিদ্দিকুর রহমান, আবদুল মান্নান, গণতান্ত্রিক মজলুম পার্টির সভাপতি জাকির হোসেন প্রমুখ।