বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে বলে ১৭ বছর রাজনীতি করেছে, এখন ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্রকে হত্যা করছে: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াফাইল ছবি

বিএনপিকে গণতন্ত্রের কথা বলে বলে বিগত ১৭-১৮ বছর রাজনীতি করতে দেখা গেছে, কিন্তু দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করছেন—এ কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক বসানোর পর প্রশাসকদের মেয়র পদে ভোট চেয়ে প্রচার সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকারে যাঁদের প্রশাসক হিসেবে বসানো হয়েছে, তাঁরা প্রশাসকের পদে বসে থেকে ভোট চাইছেন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাজ নগরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কিন্তু তাঁরা (প্রশাসক) পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের সব দেয়াল ভরে ফেলেছেন। বিএনপিকে গণতন্ত্রের কথা বলে বলে বিগত ১৭-১৮ বছর রাজনীতি করতে দেখা গেছে। কিন্তু তারেক রহমান ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করছেন। নির্বাচনের নিরপেক্ষতার স্বার্থে আমরা এর আগেও দাবি জানিয়েছি, প্রশাসকের চেয়ারে বসে নির্বাচন করা যাবে না। যদি তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন, তাহলে নির্বাচনটা একদম শুরু থেকেই বিতর্কিত, একপক্ষীয় হবে এবং নির্বাচনে কোনো ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) থাকবে না।’

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রথম ধাপে ১০০ উপজেলা–পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। দলটির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ।

সরকারের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বর্তমান সরকারের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা এখন পর্যন্ত আমরা পাইনি।’

চলমান হাম পরিস্থিতি সম্পর্কে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশে হামের প্রকোপ দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছে। আমরা মনে করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এটাকে একধরনের জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে এর মোকাবিলায় সরকার, বিরোধী দল—সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সময়ে কার দোষ বেশি, কার দোষ কম—এই কথা না বলে আমাদের একসঙ্গে এই সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে। হামের প্রকোপ বৃদ্ধির পেছনে কাদের অবহেলা, কাদের অনিয়ম জড়িত আছে, সেটাও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনা প্রয়োজন।’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা বারবার শুনেছি, নির্বাচিত সরকার এলে সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত হবে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা বারবার শুনি যে কোনো মব চলবে না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো আছে। কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। জনগণের নিরাপত্তা নিয়ে একধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

সীমান্ত হত্যা নিয়ে উদ্বেগ

সম্প্রতি বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে হত্যা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। এটিকে উদ্বেগের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, সরকার সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থা নেবে, ভারত সরকারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে সরকার জবাবদিহি চাইবে যে সীমান্ত হত্যা কেন বাড়ছে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টি দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তাটাই সর্বাগ্রে দেখতে চায় উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সরকার ‘‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ বলে। কিন্তু সীমান্ত হত্যার ব্যাপারে কোনো কথা যখন সরকার বলে না, কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ যখন নেয় না, তখন আমাদের মনে হয়, “সবার আগে বাংলাদেশ” তাদের মুখের বুলি।’

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিজয়ের পর সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সাম্প্রদায়িক নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে এর নিন্দাও জানান আসিফ মাহমুদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম বক্তব্য দেন।