ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার এত ঢোল পেটাল সিঙ্গাপুর, ব্যাংকককে ছাড়িয়ে গেছি আমরা। সেই রিজার্ভ এখন কোথায়? হঠাৎ করে নাই হয়ে গেল কেন?’ রিজার্ভে টান পড়ার কথা উল্লেখ করে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তেল–গ্যাস আমদানি করতে পারছে না। যার ফলে কম বিদ্যুৎ খরচ হলে আমদানিও কম লাগবে। সে জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করছে। এই অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরকার পুরোপুরি দায়ী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় বলা ছিল, ৬৪ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকবে সরকারের হাতে। ৩৬ ভাগ থাকবে বেসরকারি খাতে। অথচ সরকার তড়িঘড়ি করে বেজ প্ল্যান্টগুলো বেসরকারি খাতে দিয়ে দিল। এই পরিকল্পনা দুরভিসন্ধিমূলক ছিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত। যার ফলে যাকে ইচ্ছা তাকে পাওয়ার স্টেশন দিয়েছে।

সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শতভাগ বিদ্যুতের দেশ বলে হাতিরঝিলে অনেক ফানুস উড়ল কিন্তু আজকে এসে আমরা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। আগে লোডশেডিংয়ে মানুষকে পে করতে হয়নি, এখন মিউজিয়ামে যাওয়া লোডশেডিংকে ফেরত এনে পে করতে হচ্ছে। লোডশেডিং সত্ত্বেও কেন মানুষকে পেমেন্ট করতে হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।’

বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের হাতে থাকলে আজকের পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না বলে দাবি করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সরকারি কোষাগার থেকে টাকা যাবে পাওয়ার স্টেশনমালিকদের কাছে, তারা পাওয়ার স্টেশন না চালিয়ে টাকা নিয়ে যাবে। আর শতভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপি সরকারের পরিকল্পনা ছিল ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন আমরা প্রাইভেটকে দিয়ে দেব। সরকারের কাজ বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুতের বিল তোলা না। কিন্তু এই সরকার এর উল্টোটা করেছে। বিদ্যুতের প্ল্যান্ট দিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাইভেট সেক্টরকে। লস অ্যাসেসমেন্ট না করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, এখন সেই ফল ভোগ করতে হচ্ছে।’

এটাকে বড় ধরনের কূটচাল বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘জনগণের টাকা অন্যের পকেটে দিয়ে দেওয়া বড় ধরনের কূটচাল। যেটি দুর্নীতিগ্রস্ত, ফ্যাসিস্ট সরকারই করেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্যসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী।

রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন