তাঁর মনে রাখা উচিত ছিল, শাহবাগই ওনাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে: আবদুল্লাহ তাহের
জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তরের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরই নানা মন্তব্যের মাধ্যমে বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করেন—এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা বলেছেন, ‘আজকেও উনি এ রকম কথাই বলেছেন যে এগুলো পল্টন না, এটা শাহবাগ না। এটা ওনার মনে রাখা উচিত ছিল, আজকে যে উনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটা শাহবাগের প্রোডাক্ট। শাহবাগই ওনাকে আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিন্তু ওনার বক্তৃতার ব্যাপারে বহু কমেন্ট করতে পারি। কিন্তু আমরা যেহেতু একটি কালচারড, সিভিলাইজড একটা সংসদ তৈরি করার জন্য চেষ্টা করছি, সে জন্য আমরা সমালোচনা করি।...আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা আমির জামায়াত থেকে শুরু করে আমাদের সিনিয়র নেতারা যখন বক্তব্য দেন, আমরা প্রতিটি শব্দ, বাক্যের দিকে লক্ষ রাখি, যেটা সংসদকে কোনোভাবে যেন হীন বা কলুষিত করতে না পারে।’
বিএনপি এখন বিরোধী দলের সঙ্গে যে আচরণ করছে, অতীতে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলের সঙ্গে এমন আচরণ করেনি বলে অভিযোগ করেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, ‘যেসব ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থাকে সরকারের, এগুলো বিএনপি তার লোকদের দিচ্ছে। উই আর ইকুয়ালি ইলেক্টেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দ্য পিপল।
আমরা লাখ লাখ ভোট পেয়ে কিন্তু নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বিরোধী দলের এমপিদের এসব বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমাদের পুরো আন্দোলন ছিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন আর এই বৈষম্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাচ্ছে বিএনপি।’
তাহের বলেন, আজকে বাংলাদেশে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, তেল নেই, সার নেই, বীজ নেই এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশচুম্বী ঊর্ধ্বগতি কোন জায়গায় গিয়ে ঠেকবে, সেটাও কেউ এখনো বলতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একই অবস্থা, সবাই ভুক্তভোগী। এ রকম পরিস্থিতিতে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে জরুরি সংসদ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই চিঠির অনুরোধে কোনো সংসদ অধিবেশন সরকার ডাকেনি। হঠাৎ করে ২৭ আগস্ট সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। বিরোধী দল ভেবেছিল, চিঠির বিষয়ে আলোচনা হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেটা এজেন্ডা ছিল না।
বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগও করেন জামায়াতের এই নায়েবে আমির। সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, গণভোট ও নির্বাচন একই রকম আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি এখন বলছে গণভোট সংবিধান কাভার করে না। যদি গণভোট সংবিধান কাভার না করে তাহলে নির্বাচনও কাভার করে না। বিএনপির টু–থার্ড মেজরিটির সরকারও কাভার করে না। গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে তারাও বৈধ থাকেন না।
বিরোধী দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও বাইরে চেষ্টা চালাচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিরোধী দলের লংমার্চের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে জানানো, বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করছে, বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং একই আইনের দুই রকম ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা আরও বলেন, ‘আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেছিলেন দুর্নীতির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। এখন আমরা দেখছি জিরোটা আছে; কিন্তু তার বাঁয়ে আরও ১০০ যোগ হয়ে গেছে। তাইলে কত হয়? ১০০০ হয়। সেই হারেই দুর্নীতি চলছে।’
চাঁদাবাজি কোনোভাবেই প্রধানমন্ত্রীর জানার বাইরে হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তাহের। তিনি বলেন, ‘যেখানে জিরো টলারেন্স, সেখানে দুর্নীতি আরও লাফায় লাফায় বাড়তেছে।’
সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে নিজেদের মতো করে বিল পাস করছে অভিযোগ করে আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা সেটার দায়িত্ব নিতে চাই না। জনগণের সঙ্গে যে বিট্রায়াল, এটার আমরা শরিক হইতে চাই না। আমরা আগেও প্রটেস্ট করেছি জনগণের জন্য, আজকেও জনগণের স্বার্থে আমরা এই বিলে কোনো ধরনের ডিসকাশন, হিয়ারিং বা কোনো কিছুতে পার্টিসিপেট না করে আমরা বয়কট করে আসছি।’
মক্কা প্যাক্ট সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তাহের বলেন, ‘মক্কা যে চুক্তি করেছে অ্যাপারেন্টলি আমরা মনে করি এটা একটা পজিটিভ।’
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিরোধীদলীয় এমপিরা প্রশ্ন করলে তিনি কটূক্তি করেছেন। স্পিকার এ ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব ও বৈষম্য করেছেন। বিরোধী দল অসহিষ্ণু, এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ তিনটি বিল আজকে সংসদে উত্থাপনের জন্য আনা হয়েছিল। বিরোধীদলীয় নেতা বিলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে না এনে একসঙ্গে আনার কথা বলেছেন। কিন্তু তারা বিলগুলো বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে আনছে এবং পাস করিয়ে নিচ্ছে। এখানে সরকারের সংসদীয় স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বৈরতন্ত্র দেখা যাচ্ছে। স্পিকার ও সরকারি দল এককভাবে এই পুরো জিনিসটা পরিচালনা করছে।