প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ১৭ ফেব্রুয়ারিছবি: প্রথম আলো ভিডিও থেকে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সোয়া চারটার দিকে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ শেষে দুজনে হাত মেলান।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ২০ বছর পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে দলটি।

এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ আছে অনেক, যারা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নেওয়া নেতাও আছেন।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হলেন।

শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাদা শার্ট ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমানকে এ সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী এবং প্রাণবন্ত দেখাচ্ছিল। তিনি স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রবেশ করলে দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাঁদের মেয়ে জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ থেকে

এর কয়েক মিনিট পরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জড়ো হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে দেখা যায় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে স্লোগান নিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হচ্ছেন। অন্যদিকে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জনও জড়ো হন।

শপথ পাঠ শেষে শপথফরমে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান। ১৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো ভিডিও থেকে

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নতুন যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয় বিএনপি। সরকারবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে বিএনপি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়। এরপর দায়িত্ব নেয় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের অধীন গত বৃহস্পতিবার একটি উৎসবমুখর সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসনে জয়ী হয়। বিএনপি জোটের শরিকেরা ৩টি আসন পায়।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা সহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ জড়ো হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি
ছবি: প্রথম আলো

ইতিমধ্যে তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে বিভেদ ঘুচিয়ে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। এতে সর্বস্তরে একটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

বাসসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য ভেঙে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয়।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

এ ছাড়াও বাংলাদেশ সংসদ কমপ্লেক্সের জমকালো দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।