খালেদা জিয়া
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আবারও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এবারও বাসায় থেকে চিকিৎসা নেওয়া এবং বিদেশ যেতে না পারার দুটি শর্তই বহাল রাখা হয়েছে। যদিও খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনে শর্ত শিথিল করে তাঁকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছিল।

খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার ৬ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছিলেন।  

২৫ মার্চ বিএনপি নেত্রীর মুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। তবে কর্মকর্তারা জানান,  দুই দিন আগেই ২৩ মার্চ খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত রেখে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রায় দুই বছর জেলে ছিলেন। সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়েছিল ২০২০ সালের ২৫ মার্চ। তখন দেশে করোনা মহামারি চলছিল। এরপর থেকে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয় মাস অন্তর অন্তর তাঁর মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।

সম্প্রতি  সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত থাকা খালেদা জিয়ার রাজনীতি করতে পারা না-পারার প্রশ্নে সরকারের অন্তত চারজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য ছিল একই রকম। তাঁদের বক্তব্য ছিল, খালেদা জিয়ার মুক্ত থাকার শর্তে যা আছে, তাতে তাঁর রাজনীতি করতে বাধা নেই। কিন্তু সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ—এই তিনজন মনে করেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্ত থাকায় খালেদা জিয়া রাজনীতি করতে পারবেন না।